চট্টগ্রামের বৃহৎ পাইকারি বাজার টেরিবাজারের একটি বহুতল ভবনের মার্কেটে আগুন লেগে দগ্ধ হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে গুরুতর দগ্ধ আরো একজনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঈদের আগে হঠাৎ আগুনের ঘটনায় লাখ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা৷ খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহত দুজন হলেন, মোহাম্মদ ইউনুস (৫২) ও মো. সোলাইমান (২৮)। তাদের গ্রামের বাড়ি পটিয়া উপজেলায়। তবে হতাহতের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে টেরিবাজারের কেবি অর্কিড মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
স্থাস্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল নয়টা ৪০ মিনিটে টেরিবাজারের কেবি অর্কিড মার্কেট নামের ভবনের চতুর্থ তলায় ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা যায়। এসময় সেখানে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আটকে পড়ে৷ তখন মার্কেটটি বন্ধ ছিল৷ খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি স্টেশনের চারটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। আগুনে কাপড় ও টেইলারিংয়ের চারটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসময় তিনজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে দুইজনের মৃত্যু হয়৷ এছাড়া আরও একজনকে বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আলাউদ্দিন জানান, টেরিবাজারে আগুনের ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা দুজনই পুরুষ৷ আরও একজনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। ধোঁয়ায় শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে তারা মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল মন্নান বলেন, খবর পেয়ে আমাদের দুটি স্টেশনের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়। মার্কেট কাম রেসিডেন্স টাইপের ১২তলা ভবনটির চতুর্থ তলায় আগুন লাগে। আমরা ওই ফ্লোরেই আগুনকে সীমাবদ্ধ রাখতে সক্ষম হই।
টেরিবাজার দোকান মালিক সমিতির সাবেক সেক্রেটারি আহম্মদ হোসাইন জানান, যখন আগুন লাগে তখনও মার্কেটগুলো বন্ধ ছিলো৷ শ্রমিকরা ঘুম থেকে ওঠে কেউ ফ্রেশ হচ্ছিলেন আর কেউ দোকান খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন৷ ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে৷ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও একজন আহত হয়েছেন।