বহুল আলোচিত শহীদ অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতি না থাকায় চার্জগঠন হয়নি।
বুধবার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত ২২ জন আসামিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জাহিদুল হক এজলাসে উঠে একে একে আসামিদের নাম ধরে হাজিরা নিশ্চিত করেন। আদেশে তিনি বলেন, যেহেতু এটি মামলার প্রথম তারিখ, তাই প্রাথমিকভাবে নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। আগামী ১৯ জানুয়ারি উভয় পক্ষের শুনানি শেষে চার্জগঠন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার অন্যতম আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আজ আদালতে হাজির করা হয়নি। আদালত সূত্রে জানা যায়, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আদালতে হাজির করতে হলে প্রায় ৭০০ থেকে এক হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য প্রয়োজন হবে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় চার্জগঠন কার্যক্রম পেছানো হয়।
তবে নিয়ম অনুযায়ী চিন্ময় ব্যতীত বাকি আসামিদের বিকাল ৩টায় আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিকালে কয়েকজন আসামি আদালতের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দেন এবং নিজেদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানান। আদালত আইনানুগভাবে আইনজীবী নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রদানের আশ্বাস দেন। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের বিষয়টিও উল্লেখ করেন বিচারক।
বিচারক আরও বলেন, এই পর্যায়ে আদালত কাউকেই চূড়ান্ত আসামি হিসেবে বিবেচনা করছে না; অভিযোগ প্রমাণিত হলেই কেবল দোষী সাব্যস্ত করা হবে।
এদিকে শুনানিকালে আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে আসামিদের স্বজন ও সনাতন সম্প্রদায়ের বিপুল উপস্থিতি দেখা যায়। এ সময় তারা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উগ্রবাদী সংগঠন ইসকনের নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। পরদিন তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে চিন্ময়ের অনুসারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয় । সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় আলিফের বাবা কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।