কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সমাবেশ শেষে ফেরার পথে বাকবিতণ্ডার জেরে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
শনিবার দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলেমান চৌধুরী, উপজেলা দক্ষিণ শিবিরের সভাপতি রিফাত সানি, জামায়াত নেতা রবিউল হোসেন রকি, জাকারিয়া রাসেল ও কাজী রাসেল। তাৎক্ষণিকভাবে আহত অন্যদের নাম জানা যায়নি। আহতদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চৌদ্দগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জামায়াতের সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা বাড়ি ফেরার পথে হাটবাইর গ্রাম এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা আহত হন। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের নেতাকর্মীরা আমিরে জামায়াতের সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপির চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এতে আমাদের অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলেমান চৌধুরী বলেন, “শনিবার দুপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজানের বাড়িতে জামায়াত–শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গেলে পুনরায় আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে আমি ও আমার গাড়িচালক আহত হই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে দ্রুত থানা পুলিশের একটি টিম ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”