বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী কক্সবাজারে বিজিবির দুইটি সীমান্ত চৌকি (বিওপি) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। ওই দুইটি চৌকি হলো টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধীনস্থ সেন্টমার্টিন বিওপি এবং টেকনাফে নবসৃজিত ‘সী-বিচ বিওপি’।
বিজিবি মহাপরিচালক মঙ্গলবার ওই দুইটি সীমান্ত চৌকি উদ্বোধন করেন। টেকনাফে দায়িত্বরত বিজিবির ২ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্ণেল মো. হানিফুর রহমান বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্বোধন হওয়া সেন্টমার্টিন বিওপিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন সৈনিক লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, মনোবল সুদৃঢ়করণ এবং সামগ্রিক অপারেশনাল সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যে এই বিওপি নির্মাণ করা হয়েছে।
বিজিবির দেয়া তথ্যমতে, সেন্টমার্টিন দ্বীপের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও গতিশীলতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে।
অপরদিকে টেকনাফের লেঙ্গুরবিলে নবনির্মিত ‘সী-বিচ বিওপি’তে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই বিওপিতে প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে। নতুন এই সী-বিচ বিওপি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি সেখানে অবস্থানরত বিজিবি সদস্যদের নিরাপত্তা, কর্মদক্ষতা, মনোবল এবং অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিজিবির ২ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্ণেল মোঃ হানিফুর রহমান জানিয়েছেন, টেকনাফ উপজেলার দক্ষিণে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সেন্টমার্টিন দ্বীপে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তৎকালিন বাংলাদেশ রাইফেলস নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে আসছিল। পরে দ্বীপটির নিরাপত্তা দায়িত্ব বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিকট হস্তান্তর করা হয়। সীমান্ত এলাকার গুরুত্ব ও নিরাপত্তা বিবেচনায় ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল সেন্টমার্টিন দ্বীপে পুনরায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে ওই বিওপি উদ্বোধন করার মধ্যদিয়ে চূড়ান্তভাবে সেন্টমার্টিন বিওপির কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ যাত্রা শুরু হলো।