কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় স্বামীকে আটকে রেখে এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে হোমনা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বামী হোমনা পৌর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। গত ১৫ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা অটোরিকশাযোগে তিতাস উপজেলায় বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে কৃষি কলেজ এলাকা অতিক্রম করার সময় ওপারচর গ্রামের আশিকুর রহমান (২৪) ও তার ৬-৭ জন সহযোগী দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের পথরোধ করে।
অভিযুক্তরা দম্পতিসহ অটোরিকশাটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে একটি নির্জন স্থানে যায়। সেখানে কয়েকজন গৃহবধূকে আলাদা করে রাখে এবং অন্যরা তার স্বামী ও অটোরিকশাচালককে দূরে সরিয়ে নেয়। এ সময় গৃহবধূর সঙ্গে জোরপূর্বক অসদাচরণের অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা দম্পতিকে ছেড়ে দিলে তারা হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা করেছেন এবং তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রধান অভিযুক্ত আশিকুর রহমানসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আনিস উদ্দিন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, রাত তিনটার দিকে ভুক্তভোগী হাসপাতালে আসেন। তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে মোটামুটি স্থিতিশীল ছিলেন। উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।