হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

শতবর্ষী যাতায়াতের পথ বন্ধ করে যুবলীগ নেতার দোকান নির্মাণ

উপজেলা প্রতিনিধি, উখিয়া (কক্সবাজার)

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় শতবর্ষী যাতায়াতের পথ বন্ধ করে এক যুবলীগ নেতার দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের মরিচ্যা বাজারে হিন্দু পরিবারের প্রায় শতবছরের পুরোনো একমাত্র যাতায়াত পথ বন্ধ করে দোকান নির্মাণ করেন ইমরুল কায়েস চৌধুরী। তিনি হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

গতকাল শনিবার মরিচ্যা বাজারের মসজিদ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত সংখ্যালঘুদের একমাত্র যাতায়াত পথটি বন্ধ করে চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী দোকান নির্মাণের কাজ শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় ইউপি সদস্য, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং হিন্দু পরিবারের সদস্যরা নির্মাণকাজে বাধা দিলে বাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের শিল্পী কর্মকার (৪৮), স্বপ্না কর্মকার (২০) ও সুরেশ কর্মকার (৫০), রফিক(২৫), অন্যজনের নাম পাওয়া যায়নি৷ আহতরা উখিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মরিচ্যা বাজার ও আশপাশের এলাকার হিন্দু পরিবারের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত এই পথটি প্রায় একশ বছর ধরে চালু রয়েছে। পথটি বন্ধ হয়ে গেলে বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সংখ্যালঘু পরিবারের যাতায়াতে মারাত্মক ভোগান্তি সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ইমরুল কায়েস চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে আমাদের আর কমিটিতে থাকতে দেওয়া হয়নি। তিনি নিজেকে সভাপতি দাবি করে এককভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এসব বিষয়ে আমার কোনো স্বাক্ষর বা অবগতিও নেই।

হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও মরিচ্যা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মনজুর আলম বলেন, ইমরুল কায়েস চৌধুরী মসজিদের জায়গায় কোনো আলোচনা ছাড়াই দোকান নির্মাণ করেছেন এবং ভাড়া দিয়েছেন। সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো, শতবছরের পুরোনো একমাত্র যাতায়াত পথ বন্ধ করে দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ করলে তার নেতৃত্বে হিন্দু পরিবার ও ব্যবসায়ীদের মারধর করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা ইমরুল কায়েস চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উখিয়া থানার এএসআই মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তখন বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

এদিকে, গতকাল মাগরিবের পর মরিচ্যা বাজার ব্যবসায়ীরা অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের গ্রেপ্তারের দাবিতে একটি বিশাল মশাল মিছিল করেন। একই সময়ে অন্য পক্ষের উখিয়া সদরে রফিক উদ্দিন আহত হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এনসিপির ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

ঘটনার পরপরই উখিয়া থানা পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

চট্টগ্রামে বিএনপির সমাবেশে কিশোরের মৃত্যু, অসুস্থ ২

তারেক রহমানের কাছে যে তিন দাবি জানালেন সাঈদ আল নোমান

প্রস্তুত কুমিল্লার ডিগবাজি মাঠ, সন্ধ্যায় বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান

হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ বিএনপির

বিএনপির প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানালো জাতীয় পার্টি

ভোট ডাকাতির চেষ্টা হলে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ: হাসনাত আব্দুল্লাহ

খোলা আকাশের নিচে নামাজ আদায় করছেন রোহিঙ্গা মুসল্লিরা

বাংলাদেশের মূল প্রাণশক্তি হচ্ছেন কৃষক: তারেক রহমান

সন্ত্রাস-চাঁদাবাজমুক্ত ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে

গণভোটের প্রচারে প্রাণ নেই, বিভ্রান্তিতে সাধারণ মানুষ