কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্প– ১৬’র ব্লক– ২ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে একটি মসজিদ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। আগুনে মসজিদের সব ধরনের নির্মাণসামগ্রী, ধর্মীয় কিতাবাদি এবং পবিত্র কুরআন শরিফের একাধিক কপি ভস্মীভূত হয়। ফলে বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে নামাজ আদায় করছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। এই অবস্থায় মসজিদটি পুনর্নির্মাণে বৃত্তবান ও মানবিক সংস্থাগুলোর সহায়তা কামনা করা হয়েছে।
ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জানুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকায় অবস্থিত ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় ৩৪ হাজার রোহিঙ্গার বসবাসরত এই ক্যাম্পে বাঁশ ও ত্রিপলের তৈরি ঘরগুলো ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় একটি ঘরে আগুন লাগার পর তা দ্রুত আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
এই অগ্নিকাণ্ডে রোহিঙ্গাদের অসংখ্য বসতঘরের পাশাপাশি ২টি মসজিদ, ১০টি লার্নিং সেন্টার (শিশুশিক্ষাকেন্দ্র) এবং ১টি মাদ্রাসা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। এতে প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গা পরিবার গৃহহীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্লক–০২ এলাকার পুড়ে যাওয়া মসজিদটি আশপাশের প্রায় ৮০টি শেল্টারের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন নামাজ ও ধর্মীয় কার্যক্রমের একমাত্র কেন্দ্র ছিল। অগ্নিকাণ্ডের পর বিভিন্ন এনজিওর সহায়তায় অনেক পরিবার তাদের বসতঘর পুনর্নির্মাণ শুরু করলেও এখন পর্যন্ত কোনো এনজিও বা প্রতিষ্ঠান এই মসজিদ পুনর্নির্মাণে এগিয়ে আসেনি।
মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতোমধ্যে প্রায় দশজন ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিনিধিদল মসজিদ পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি, যা স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে।
পুড়ে যাওয়া মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আমিন বলেন, বর্তমানে আমাদের খোলা জায়গায় নামাজ আদায় করতে হচ্ছে। এটি শুধু শারীরিকভাবে কষ্টকর নয়, মানসিকভাবেও অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মসজিদ কমিটিতে মোট পাঁচজন সদস্য থাকলেও তাদের একক প্রচেষ্টায় মসজিদ পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব নয়।
এমতাবস্থায় মসজিদের ইমাম ও কমিটির পক্ষ থেকে দয়ালু ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন এবং দেশি-বিদেশি এনজিওগুলোর প্রতি বিনীত আহ্বান জানানো হয়েছে—তারা যেন সরাসরি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মসজিদ কমিটির সঙ্গে আলোচনা করেন এবং এই পবিত্র ইবাদতখানা পুনর্নির্মাণে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
স্থানীয় রোহিঙ্গাদের আশা, দ্রুত মানবিক সহায়তার মাধ্যমে মসজিদটি পুনর্নির্মিত হলে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আবারও স্বাভাবিকভাবে নামাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় ইবাদত পালন করতে পারবেন।