দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের উপস্থিত ও মনোযোগ বাড়াতে নতুন সংযোজন 'সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ফিডিং কর্মসূচি' চালু হয়েছে। অথচ এই নতুন সংযোজন কর্মসূচি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় অঞ্চল কমলনগর উপজেলার প্রায় ২০হাজার শিশু শিক্ষার্থী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রামগতিসহ পাশের বেশ কিছু উপজেলা স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু হয়েছে। কিন্তু পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছে মেঘনা নদীর কোল ঘেঁষা উপকূলীয় উপজেলা কমলনগর। এতে শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত মান ও লেখা পড়ায় মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো.শরীফ উদ্দিন বলেন, সরকার শিশু শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং চালু করেছে। এটা বাচ্চাদের লেখা পড়ায় মনোযোগ বাড়াতে সহযোগিতা করবে। অথচ পাশের উপজেলাগুলোতে কর্মসূচি চালু হলেও আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। এটা একটা বড় ধরনের বৈষম্য ছাড়া আর কিছুই নয়। এমনটা চলতে থাকলে শিশুদের মানসিক বিকাশ ও পড়া-লেখা মনোযোগ কমতে পারে।
প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্মসচিব মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের স্বাক্ষর করা একটি অফিস আদেশ ও কিছু নির্দেশনা দেখেছি। যাতে উল্লেখ্য রয়েছে সারাদেশে বেশ কিছু প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং খাদ্যে পুষ্টিসমৃদ্ধ ফর্টিফাইড বিস্কুট, ইউএইচটি দুধ, বনরুটি, সিদ্ধ ডিম, কলা ও স্থানীয় ফল প্রদান করা হবে। এতে কীভাবে খাদ্য বিতরণ করবে সেই রুটিন পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। সপ্তাহে রোববারে বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম, সোমবারে বনরুটি ও ইউএইচটি দুধ, মঙ্গলবারে বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম, বুধবারে ফর্টিফাইট বিস্কুট ও কলা বা স্থানীয় ফল এবং বৃহস্পতিবারে বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম প্রদান করা হবে।
কমলনগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রান্তিক শাহা বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু হলে দেশে শিশু শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাবে। হতদরিদ্র ও পুষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের মান উন্নয়ন হবে। শিক্ষার্থীরা পুষ্টিগত মান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। অপুষ্টির ঝুঁকি থেকে শিশু শিক্ষার্থীরা মুক্ত হবে। এখন সারাদেশের উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালু হলেও কমলনগরে চালু হচ্ছে না। উপকূলীয় অঞ্চলকে বঞ্চিত করা হতাশাজনক। সরকার যেন উপকূলীয় অঞ্চলের মধ্যে কমলনগর উপজেলাকে বরাদ্দের আওড়তায় রাখে সেজন্য চিঠি দেয়া করা হবে।