হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

বিএনপির মনোনয়নে উপেক্ষিত চট্টগ্রাম

এম কে মনির, চট্টগ্রাম

বিএনপি থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়া নেত্রীদের তালিকায় চট্টগ্রাম থেকে স্থান পেয়েছেন মাত্র একজন। বঞ্চিত হয়েছেন আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া বহু অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেত্রী। চট্টগ্রামের বৃহৎ রাজনৈতিক ইউনিট থেকে মাত্র একজনকে মনোনয়ন দেওয়াকে অনেকেই ‘অবমূল্যায়ন’ হিসেবে দেখছেন।

গত সোমবার বিকেলে কেন্দ্র থেকে চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিএনপি অফিস এলাকায় চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। নেতাকর্মীদের বক্তব্য, নগর ও জেলায় সিনিয়র এবং ত্যাগী অর্ধ শতাধিক নেত্রী থাকার পরও তারা মনোনয়ন পাননি, যা চট্টগ্রামের প্রতি বড় ধরনের রাজনৈতিক বৈষম্য। যে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সেটাও আইনজীবী অঙ্গন ও উত্তরাধিকার বিবেচনা করে দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মনোনয়ন তালিকা ফের মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

সংরক্ষিত নারী আসনে চট্টগ্রাম থেকে মনোনয়ন লাভ করা ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা চট্টগ্রাম-৫ আসনের সাবেক এমপি মরহুম ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে। ২০১৬ সালে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকার তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করলে র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ সময়ে কারাগারে থেকে জামিনের পর তিনি দেশ ছাড়েন। ফলে তার মনোনয়ন নিয়ে তেমন কোনো বিতর্ক নেই। তবে এত গুরুত্বপূর্ণ জেলা থেকে মাত্র একজন নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে।

তারা বলেন, ৩৬ জন নারী নেত্রী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এদের মধ্যে অতীতে হামলা, মামলার শিকার হয়েছেন, রাজপথে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, কারাবরণ করেছেন— এমন নেত্রীর সংখ্যা দুই ডজনের ওপরে। এর বাইরে উত্তর ও দক্ষিণ জেলায় আরো কয়েকজন সিনিয়র নারী নেত্রী রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। অথচ মনোনয়ন পেয়েছেন মাত্র একজন।

অভিযোগ রয়েছে, মনোনয়ন ঘোষণার পর বঞ্চিত নেত্রীদের কেন্দ্রীয় নেতারা একটু সান্ত্বনাও দেননি। কেউ কেউ বিষয়টিকে কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রুপিং ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন তারা। আবার অনেকেই বলছেন, সবাই ব্যাঙের ছাতার মতো সংরক্ষিত আসনের এমপি হতে সবাই মরিয়া উঠেছিলেন। ফলে ত্যাগীরাও মূল্যায়িত হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত বিএনপির একজন এমপি জানান, মনোনয়ন বোর্ডে চট্টগ্রামের তিনজন নেত্রীর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু একজন মন্ত্রী ও একজন প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রীর দ্বন্দ্বে দুজনকে বাদ দিতে বাধ্য হয় বোর্ড।

বিএনপি সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি ও চসিকের সাবেক কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি, সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি মেহেরুন নেছা নার্গিস, দক্ষিণ জেলা সভাপতি জান্নাতুল নাঈম রিকু, চসিকের সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম, আফরোজা বেগম, নাজমা সাঈদ, শাহেনেওয়াজ চৌধুরী, এসএম নুসরাত ইকবাল, নাছিমা আক্তার চৌধুরী, আইরীন পারভীন খন্দকার, ফরিদা আকতার, ডা. কামরুন নাহার, ড. নাছিমা ইসলাম চৌধুরী বৃষ্টি, রীনা আকতার, দিল আফরোজ সুলতানা চৌধুরী, জিনাতুন নেছা জিনু, ইয়াসমিন খান, ডা. লুসি খান, অ্যাডভোকেট হাসনা হেনা, আয়শা আকতার সানজি, সায়মা আহমেদ, নাসিমা সাফা কামাল, বিবি হাজেরা সাদাত আলম, নাজনীন মাহমুদ, গোলতাজ বেগম, অ্যাডভোকেট কানিজ কাউসার চৌধুরী, মাহমুদা সুলতানা চৌধুরী ঝর্ণা, ডা. ফারাহনাজ মাবুদ সিলভী, নুরী আরা সাফা, ফারহানা ইয়াছমিন চৌধুরী আঁখি, সুলতানা বেগম আঁখি সুলতানা, রৌশন আখতার, সুলতানা পারভীন, ডা. ফারহানা আফরোজ চৌধুরী ও জেসমিনা খানম।

মহিলা দলের কর্মী মুন্নি আকতার বলেন, চট্টগ্রাম ছিল আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার। সেই জায়গা থেকে কাউকেই মনোনয়ন দেয়নি দল। বিষয়টি হতাশার।

মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি বলেন, ২০১১ সাল থেকে মহিলা দলের সভাপতি আমি। দুঃসময়ে দলকে আগলে রেখেছি। শরীরে বুলেট নিয়ে আমার জীবন চলা। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে আন্দোলনে পুরুষ নেতাদের ঢাল হতাম। বহু মামলা, হামলা আর শ্লীলতাহানি করেছে স্বৈরাচারী বাহিনী। মহিলা দল না নামলে অনেকে কল্পনাই করত না আন্দোলনের কথা। অথচ আমাদের দল যথাযথ মূল্যায়ন করেনি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী বলেন, ১৯৭৮ সাল থেকে বিএনপি করি। আমি যাদের সঙ্গে রাজনীতি করেছি তারা এখন মন্ত্রী, এমপি হয়ে সরকারে আছে। বিগত ১৭ বছর কাউকে ঘর থেকে বের করা যেত না আন্দোলনের জন্য। তাদের হাতে-পায়ে ধরে মিছিলে নেওয়া লাগত। আমরা সামনে থেকে মিছিলকে নিরাপত্তা দিতাম। এটা করতে গিয়ে আমরা জেল, জুলুম, হামলা, বৈষম্য সবকিছুর শিকার হয়েছি। দুঃসময়ে রাজপথে কাউকে পাইনি, সুসময়েও দল আমাদের গোনায় রাখছে না। এটা সবচেয়ে বড় হতাশার। চট্টগ্রামের প্রতি এমন অবিচার ও অবমূল্যায়ন করা হবে কখনো ভাবিনি। দলের এমন বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তে সবাই হতাশ।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, অন্যান্য জেলার তুলনায় আসন সংখ্যা বিবেচনায় চট্টগ্রামের অন্তত ৩-৪টি সংরক্ষিত আসন পাওয়া উচিত ছিল। বিগত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে চট্টগ্রামে অনেক নারী নেত্রী সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের মূল্যায়ন না করায় এক ধরনের বৈষম্য হয়েছে। এমনটি চলতে থাকলে ত্যাগী নেতাকর্মীরা মনোবল হারাবে। শপথ নেওয়ার আগে পর্যন্ত এই তালিকা পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ আছে। দলের হাই কমান্ড সেই উদ্যোগ নেবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

ইজারার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ব্যবসায়ীকে মারধর

চাঁদপুরে আধুনিক যন্ত্রে সজ্জিত অবৈধ পলিথিন ফ্যাক্টরির সন্ধান

‘চাপাতি দিয়ে পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন করা ছাত্রদলের প্রকাশ্যে রাজনীতির নমুনা’

মেঘনায় ঝটিকা অভিযানে জুয়ার আসর থেকে আটক ৮

‘আর কত ত্যাগ স্বীকার করলে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন মিলবে?’

মতলব উত্তরে ফ্যাসিস্ট আমলে কেনা সব বায়োমেট্রিক মেশিন অকেজো

রাউজানে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নিহত

বিএনপির মনোনয়নে উপেক্ষিত চট্টগ্রাম

জামায়াতের লাইব্রেরিতে বিএনপির হামলা-ভাঙচুর, আহত ৮

দুটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক সংকট, সেবাবঞ্চিত রোগীরা ‎