কক্সবাজারের রামুতে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ও প্রায় সাড়ে চার লাখ নগদ টাকাসহ যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই অভিযানে এক নারীসহ ওই যুবদল নেতার দুই সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার ভোরে গোপন সংবাদে রামুর ফতেখাঁরকুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ । এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা এবং সাড়ে চার লাখ নগদ টাকা জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন রামু উপজেলা যুবদলের সাবেক অর্থ সম্পাদক ও ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব শওকত আলম, কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া সুতারচর এলাকার আলী আহমদের ছেলে রাসেল (৪০) ও রামুর পশ্চিম মেরংলোয়া এলাকার আলমগীর ওরফে আলমের স্ত্রী কামরুন্নাহার (৩২)।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে শওকত আলম মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। তিনি সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের জন্য একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, কয়েক বছর আগেও উল্লেখযোগ্য আয়ের উৎস না থাকলেও বর্তমানে শওকত বিপুল সম্পদের মালিক। অল্প সময়ের মধ্যে তার আর্থিক অবস্থার বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। তিনি সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতেন। এ কাজে একটি চক্র গড়ে তোলেন তিনি।
তারা জানান, মাদক ব্যবসা আড়াল করতে তিনি সদর উপজেলার খরুলিয়া এলাকায় একটি ফার্নিচারের ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিতেও প্রভাব বিস্তার করতে চেষ্টা করেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ছমি উদ্দিন বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শওকত আলমসহ তিনজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ও নগদ সাড়ে চার লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরো কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।