চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের দুই দফা সংঘর্ষের পর দেশীয় অস্ত্রধারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে সংঘর্ষে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুরের মধ্যে লালদিঘিস্থ সিএমপি সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সংঘর্ষের সময় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ওঠায় এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কমিশনার জানান, পুলিশের কোনো গাফিলতি থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘আইন–শৃঙ্খলা রক্ষায় কোথাও যদি ব্যত্যয় ঘটে থাকে, আমরা নিজেরাই তার জবাবদিহি করব,’ বলেন তিনি।
সিএমপি কমিশনার জানান, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষ মামলা করেনি এবং কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি। তবে সিটি কলেজ এলাকায় উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নজরদারি বাড়িয়েছে। সংঘর্ষে কারা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করেছে, কারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে—এসব বিশ্লেষণ করে পৃথক তালিকা করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার সকালে গ্রাফিতি পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে প্রথম দফা সংঘর্ষের পর বিকেলে আবারও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সিটি কলেজ এলাকা। উভয় পক্ষের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়, চলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
সংঘর্ষে আহত ছাত্রশিবিরকর্মী আশরাফুল ইসলামের পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় চট্টগ্রামজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে কলেজ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সিএমপি কমিশনার বলেন, ক্যাম্পাসে সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না। দেশীয় অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, চলবে। যারা আইন ভাঙবে, পরিচয় যাই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না।
জেডএম