হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

সিডিএ চেয়ারম্যান পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ ৮ বিএনপি নেতার

এম কে মনির, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিএনপির কমপক্ষে এক ডজন নেতা। এর মধ্যে সিডিএ চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন আটজন। আর জেলা পরিষদের প্রশাসক হতে তদবির করছেন চারজন। গত এক মাস ধরে তারা বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তারা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি। দুটি আসন ছাড়া ১৪টিতে জয় পায় দলটি। নির্বাচনের আগে সবকটি আসনে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে একটি আসন ছাড়া অন্য কোনো আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল না। তাই ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন ও বঞ্চিতদের ক্ষোভ নিরসনে নির্বাচনের পর থেকেই বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে বিএনপি নেতাদের পদায়ন করা হবে বলে জোর প্রচার চলছে দলের ভেতরে-বাইরে।

সূত্র জানায়, জেলা পরিষদের প্রশাসকের পদটি ৫ আগস্টের পর থেকেই শূন্য। তবে সিডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে গণঅভ্যুত্থানের পরে নিয়োগ পান প্রকৌশলী নুরুল করিম। তিনি বিএনপি সমর্থক পেশাজীবী নেতা হিসেবে পরিচিত। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়ায় ওই পদে পরিবর্তনের গুঞ্জন চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। জেলা পরিষদ প্রশাসকের চেয়ে সিডিএ চেয়ারম্যানের পোস্টটি লোভনীয়। তাই এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বীও বেশি। সিডিএ চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য বিএনপির অন্তত ৮ নেতা এবং জেলা পরিষদ প্রশাসকের জন্য ৩-৪ জন জোর তদবির চালাচ্ছেন কেন্দ্রে।

জানা গেছে, গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দলের হাইকমান্ডের কাছে ধরনা দিচ্ছেন বিএনপি নেতারা। অতীতে মামলা-হামলা, জেল-জুলুমের বিষয় তুলে ধরে রাজনৈতিক বায়োডাটা দিচ্ছেন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে। দৌড়ে রয়েছেন বিগত সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী থেকেও শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো নগর ও জেলার অন্তত এক ডজন নেতা। তাদের কেউ কেউ এখন ঢাকা ও চট্টগ্রামে নেতাদের বাসা ও অফিসে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সূত্র জানায়, কে হচ্ছেন পরবর্তী সিডিএ চেয়ারম্যান— এটি এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার তুঙ্গে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নেতাদের ছবি দিয়ে অনুসারীরা পোস্ট দিচ্ছেন। তবে আলোচনায় থাকা নেতারা বলছেন, সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সরকার যাকে মনোনীত করেন, তাকে সবাই সহযোগিতা করে চট্টগ্রামের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেবেন তারা। সংস্থাগুলোতে দায়িত্ব পেলে নিজস্ব পরিকল্পনা ও নগরবিদদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করবেন। 

দলীয় সূত্র জানায়, সিডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, বর্তমান কমিটির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান ও উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ও ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল আজিমউল্লাহ বাহার। এছাড়াও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নিয়াজ মোহাম্মদ খান, আহমেদুল আলম রাসেল, ইয়াসিন চৌধুরী লিটনসহ আরো কয়েকজন হতে চান সংস্থাটির চেয়ারম্যান। যদিও এসব পদে আলোচনায় থাকলেও নেতাদের অনেকের মনের ঈষাণ কোণে লুকিয়ে আছে দলীয় পদ-পদবী পাওয়ার ইচ্ছে। অনেকে বলছেন, আবুল হাশেম বক্কর, নাজিমুর রহমান ও কর্নেল আজিমউল্লাহ বাহারের মধ্যে একজন পরবর্তী সিডিএ চেয়ারম্যান হতে চলেছেন।

জানা গেছে, আবুল হাসেম বক্কর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পুরোটা সময় কখনো দলের সাধারণ সম্পাদক কখনো আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। মামলা, হামলা, জেল-জুলুম সবই সয়েছেন। নগর বিএনপির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়ে ঢাকায় পাড়ি জমানোর পর থেকে মূলত শাহাদাৎ-বক্কর জুটিই বিএনপির হাল ধরে রাখেন। জুলাই বিপ্লবের মাসখানেক আগে ভেঙে দেওয়া নগর কমিটিরও সদস্য সচিব ছিলেন তিনি। গণঅভ্যুত্থানের পর আদালতের নির্দেশে ডা. শাহাদাৎ হোসেন সিটি মেয়রের পদ ফিরে পান। কিন্তু আবুল হাশেম বক্কর দৃশ্যত কোনো দায়িত্বে এখন নেই। তাই বক্করকে সিডিএর শীর্ষ পদে বসিয়ে মূল্যায়ন করা হতে পারে বলে ধারণা অনেকের।

এদিকে নাজিমুর রহমান দলের বর্তমান সদস্যসচিব। সিনিয়র নেতারা বিভিন্ন আসনে নির্বাচন করলেও তিনি দলের হাল ধরে ছিলেন। ১৯৮৫ সাল থেকে ছাত্রদল করে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে হামলা, মামলার শিকারও হয়েছেন এক সময়ের এই তুখোড় ছাত্রনেতা। সেই হিসেবে তাকেও মূল্যায়ন করা হতে পারে বলে ধারণা অনেকের।

এদিকে কর্নেল আজিম উল্লাহ বাহারও ২০১৮ সালের নির্বাচনে ফটিকছড়ি থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়ে আহতও হন। গত সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি তিনি। তাই এই পদের তিনিও শক্ত দাবিদার। 

আবুল হাশেম বক্কর জানান, ছাত্রদল থেকে দলের জন্য কাজ শুরু করেছেন তিনি। দুঃসময়ে যুবদল ও বিএনপির হালও শক্ত হাতে ধরে রেখেছেন। গত নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে মনোনয়ন চাইলেও পাননি। তবে দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে কাজ করেছেন। এখন দল যদি কোনো পদে দায়িত্ব দেয়, তবে সেই দায়িত্ব পালন করতে তিনি প্রস্তুত।

কর্নেল আজিমউল্লাহ বাহার বলেন, দল দায়িত্ব দিলে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে নগরীর উন্নয়নে কাজ করবেন।

তবে নাজিমুর রহমান বলেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, এই মুহূর্তে তারেক রহমানের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপিকে আরো শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করে গড়ে তোলার দিকেই মনোযোগী হতে চান তিনি। দলে কোনো ভাইয়ের নামে স্লোগান নয়, ব্যক্তির নামে পোস্টার-ব্যানার নয়— এমন নীতি বাস্তবায়নে শুরু থেকে কাজ করছেন। তারপরও দল কোনো দায়িত্ব দিলে তা পালন করতে হবে বলেও জানান তিনি।

এই তিনজনের বাইরে আলোচনায় আছেন আরো পাঁচজন বিএনপি নেতা। তারা হলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য শামসুল আলম, চসিকের তিনবারের সাবেক কাউন্সিলর ও নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নিয়াজ মোহাম্মদ খান, আহমেদুল আলম রাসেল, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন ও মঞ্জুর আলম মঞ্জু ।

সিডিএ সূত্র জানায়, এই পদে দায়িত্ব পালন অনেকটা টেকনিক্যাল বিষয়ের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু আওয়ামী লীগ আমলের পুরোটা সময় পদটি দলীয়করণ করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে ফের পেশাদারত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আবার এই পদে দলীয় নেতাদের বসানো হতে পারে বলে গুঞ্জন চলছে।

এদিকে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছেন উত্তর জেলা ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির চার নেতা। তারা হলেন উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া, সদস্যসচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন ও সীতাকুণ্ড থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া কাজী সালাহউদ্দিন। তবে উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের নাম আলোচনার শীর্ষে। চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদল থেকে রাজনীতি শুরু করা বেলায়েত সন্দ্বীপ উপজেলা ও জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে ছিলেন। দেশে চারবার কারাবরণ করাসহ বিদেশেও দলের কর্মকাণ্ড করে জেল খাটতে হয়েছে তাকে।

নেতাকর্মীরা মনে করেন, নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত বেলায়েতকে করা হতে পারে জেলা পরিষদের প্রশাসক। তবে গত সংসদ নির্বাচনে সীতাকুণ্ড  আসন থেকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল কাজী সালাহ উদ্দিনকে। শেষ পর্যন্ত তাকে পরিবর্তন করে মনোনয়ন দেওয়া হয় লায়ন আসলাম চৌধুরীকে। শেষ মুহূর্তে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে আসলাম চৌধুরীকে জয়ী করতে কাজ করেন তিনি। তাই জেলা পরিষদ প্রশাসকের চেয়ারে তাকে বসিয়ে মূল্যায়ন করা হতে পারে বলে প্রচার আছে দলের ভেতরে। এই পদে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া ও সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিনও। প্রশাসক পদে বসতে ইতিমধ্যে লবিং-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

ফেনীতে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুতে ৩ চিকিৎসকের নামে মামলা

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

রাঙ্গামাটিতে ইউপিডিএফ কর্মীকে গুলি করে হত্যা, দুই বোন গুলিবিদ্ধ

রামগঞ্জে ৯২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য

চার জাহাজে আসছে ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল

উখিয়ায় পাকা ভবন উচ্ছেদে বন বিভাগের মামলা

সীতাকুণ্ডে পাহাড় কাটার দায়ে জরিমানা ২ লাখ, ১৫ দিনের কারাদণ্ড

হাতিয়ায় ৩ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ, মুদি দোকানদার আটক

স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, মামলা

কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণ-হত্যা চেষ্টার অভিযোগ দুই কিশোরের বিরুদ্ধে