কক্সবাজারে সংবাদ সম্মেলনে
বিএনপি নেতাকর্মীরাই বিএনপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আওয়ামী দোসর চেয়ারম্যানকে পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলেছেন। এই অভিযোগ তুলে তারা ইউনিয়ন বিএনপির কমিটির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে সেই ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের দাবি তুলেছেন।
কক্সবাজারের রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি নিয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই অভিযোগ তুলেছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, রশিদনগর ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আহমদ নবী দলীয় ঐক্যে বিভক্তি সৃষ্টি করছেন এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছেন।
তাদের অভিযোগ, এই দুই নেতা অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ সমর্থনপুষ্ট সাবেক বিতর্কিত চেয়ারম্যান শাহ আলমকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন, যা দলের ত্যাগী নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, রশিদনগর ইউনিয়ন এক সময় শান্তিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলমের সময় এলাকায় সন্ত্রাস, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা ও সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার প্রেক্ষিতে অপসারণের পরও পুনর্বহালের চেষ্টা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অতীতে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে শাহ আলমের বিরুদ্ধে। অথচ বর্তমানে বিএনপির কিছু নেতা তার পক্ষ নেওয়ায় দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
তারা দ্রুত বিএনপির বর্তমান ইউনিয়ন কমিটি বাতিল করে ত্যাগী, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলমকে পুনর্বহালের যে কোনো উদ্যোগ বন্ধ করার আহ্বান জানান।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ১১টি ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। এই নেতারা হলেন ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আজিজুল হক আজু, মাহমুদুল হক চোধুরী, শফিক, আনসার উদ্দিন, রমজান আলম, আবু বকর, মোহাম্মদ বাবুল, রয়ীদুল আলম, মুস্তাফিজুর রহমান, সাবেক দপ্তর সম্পাদক জাফর, বিএনপি নেতা মোস্তাক আহমদ, এহসানুল হক, মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও আনোয়ার, ইউনিয়ন যুবদল আহ্বায়ক দিদারুল আলম, সদস্যসচিব উবায়দুল্লাহ ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নাজিম উদ্দিন।
তারা এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।