ফেনীর ফুলগাজীতে টিনের চাল কেটে ঘরে প্রবেশ করে এক প্রবাসীর স্ত্রী গৃহবধূ কুলসুমা আক্তার কাজল হত্যার ক্লু উদঘাটন করেছে র্যাব। ঘটনার মূল হোতা হিসেবে নিহতের দূরসম্পর্কের ভাগিনা আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত মো. আরিফুল ইসলাম (৩১) স্থানীয় দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রামের মো. রসুল মিয়ার ছেলে।
র্যাব জানায়, ঋণের টাকা পরিশোধের উদ্দেশ্যে কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রী কুলসুমা আক্তার কাজলের বাড়িতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে আরিফ। ঘটনাকালে কাজল তাকে দেখে ফেললে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে আরিফ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন।
র্যাবের তথ্যমতে, ফজরের নামাজের সময় স্থানীয় লোকজন ঘর থেকে বের হওয়ার পর কুলসুমা আক্তার কাজলের গোঙানির শব্দ শুনে প্রতিবেশীরাসহ বাড়িতে জড়ো হতে শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘাতক আরিফ ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ১২টায় ফেনী র্যাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে একমাত্র অভিযুক্ত আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, টিনের চাল কেটে ঘরে প্রবেশ করে গৃহবধূকে হত্যার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।নিহত কাজল আক্তার ওই উপজেলার আমজাদ হাট ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রামের কুয়েত প্রবাসী নুরুল আলমের স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী।
এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা ২/৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ফুলগাজী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং-১৩, তারিখ-২৮ মে ২০২৬ইং; ধারা- ৪৫৭/৩০২/৩৪, পেনাল কোড-১৮৬০।
ঘটনার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ শুরু করে।অভিযান চালিয়ে সোমবার( ২৯ জুন) সকালে ক্লুলেস চাঞ্চল্যকর এ মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. আরিফুল ইসলামকে (৩১) একই উপজেলার উত্তর ধর্মপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
অধিনায়কের পক্ষে র্যাবের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন গ্রেপ্তারকৃত আসামি সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।