কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ছাত্রশিবিরের নেতা জিসান প্রধান অপহৃত হননি। তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। লাকসাম থেকে রাতে উদ্ধারের পর জিসান দাবি করেছিলেন তাকে গাড়িযোগে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে কুমিল্লা জেলা পুলিশ রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি, তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করেছিলেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায় ‘ গত ২০ মে জিসান তার দাউদকান্দির ভাড়া বাসায় নিয়ে বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীকালে ওই নারী অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়লে ওষুধের মাধ্যমে বাচ্চা নষ্ট করা হয়। এ ঘটনার পর ওই নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান শুক্রবার বিয়ে করবেন বলে সন্মতি দিয়েছিলেন।
বিবৃতিতে পুলিশ আরও জানায়, বৃহস্পতিবার জিসান বিয়ে না করার তালবাহানায় নিজেই আত্মগোপন করেন। এ ঘটনায় তিনি তার চাচাতো ভাই রাসেল আহাম্মদের মাধ্যমে থানায় নিখোঁজের বিষয়ে জিডি করেন। এদিকে জিসানের নাটকীয় উদ্ধারের খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে ওই নারী বাদী হয়ে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা এবং ভ্রণ নষ্ট করার অভিযোগে জিসানকে প্রধান আসামি করে চারজনের নামে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, পাঁচ-ছয় মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে জনৈক লিজা আক্তারের (২৫, বিধবা) সঙ্গে মো. জিসানের মোবাইল ফোনে কথাবার্তা শুরু হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অনুসন্ধানকালে আরো জানা যায়, জিসান মিয়া গত ২০ মে তার দাউদকান্দির ভাড়া বাসায় লিজা আক্তারকে ধর্ষণ করেন।
পরবর্তীকালে বিভিন্ন সময়ে জিসান মিয়া লিজা আক্তারকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করলে লিজা অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়েন। পরে জিসান মিয়া লিজা আক্তারকে জোরপূর্বক বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং বাচ্চা নষ্ট না করলে লিজাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন।
একপর্যায়ে লিজা জানের ভয়ে বাচ্চা নষ্ট করতে রাজি হলে জিসান মিয়া তার বন্ধু জনৈক সেকান্দার আলীর ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ কিনে লিজাকে খাওয়ান। দু-তিন দিন পর প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হলে লিজা নিজেই জিসানকে বিষয়টি জানান।
তখন জিসান তার চাচাতো ভাই সজীবের মাধ্যমে পুনরায় ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিয়ে লিজার বাড়িতে পৌঁছে দেন। ইতিমধ্যে রক্তক্ষরণ বন্ধ হলে জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দেন লিজা। একপর্যায়ে জিসান ১২ জুন বিয়ের জন্য সম্মতি দেন। ইতিমধ্যে ১১ জুন ৮টার পর পর বিয়ে না করার তালবাহানায় জিসান নিজেই আত্মগোপন করেন।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, নিখোঁজ শিবির নেতাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে কেউ অপহরণ করেনি। এক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক ঘটনার জের ধরে তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। ওই নারী তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমনে আইনে মামলাটি করা হয়। ওই নারী তার বিরুদ্ধে ভ্রূণ নষ্টসহ বেশ কিছু অভিযোগ করেছেন।
এর আগে, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তাকে রেলওয়ে জংশন থেকে উদ্ধার করে লাকসাম ক্রসিং থানার পুলিশ।
অভিযুক্ত জিসান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক। তিনি শিবিরের কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।
এমএইচ