হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

কুয়েত পালিয়েছে তনু হত্যার ৩ নম্বর আসামি

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা

তনু হত্যার ৩ নং আসামি। ছবি: আমার দেশে

কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত সন্দেহভাজন আসামি সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলম দেশ ছেড়েছেন। তিনি পালি চলে গেছেন কুয়েতে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলায় গতি আসার খবরে দেশ ছেড়ে পালান তিনি।

দেশ ছেড়ে পালানোর খবর পেয়ে সোহাগী জাহান তনুর মা আনোয়ারা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে আমার দেশকে বলেন, ‘সব আসামির দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ছিল, কিন্তু কীভাবে সে পালিয়েছে? আমরা সরকারের কাছে জানতে চাই, সরকারের কাছে দাবি করছি, অতি দ্রুত যে কোনোভাবে হোক, তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনা হোক । সে কীভাবে পালিয়ে গেল, দেশে কী পুলিশ নাই?

শাহিন আলম কুমিল্লা সেনানিবাসের ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নের সৈনিক ছিলেন। চাকরির খুব অল্প সময়ের মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে নিজ এলাকা কুমিল্লার বুড়িচংয়ের গোবিন্দপুরে গড়ে তোলেন গরুর বড় একটি খামার। দোকান দেন গোবিন্দপুর এলাকার বাজারে। তার দোকান ও ফার্মের নাম ‘মেসার্স সুমাইয়া এগ্রো’। দেশ ছাড়ার পর দোকানটি বন্ধ হয়ে গেলে ভাড়া নেয় অন্য একটি পক্ষ।

কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তরীকুল ইসলাম তদন্তকালে যে তিনজন সাবেক সেনাসদস্যের নাম কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ১ নম্বর আমলি আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মুমিনুল হকের আদালতে দাখিল করেছেন, সেখানে শাহিন আলমের নাম তিন নম্বরে রয়েছে। তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য আদালত অনুমতি দিয়েছেন এবং তদন্ত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য আবেদন জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, খুব অল্প সময়ের মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে আসার কারণ হিসেবে শাহিন আলম শারীরিক ‘আনফিট’ থাকার কথা এলাকাবাসীর কাছে প্রচার করেন। কুমিল্লার বুড়িচংয়ে গোমতী নদীপাড়সংলগ্ন গোবিন্দপুর গ্রামে দেন গরুর খামার। সেখানে ১০টির বেশি গরু ছিল। আর দোকানটিতে গোখাদ্য বিক্রি করতেন। তার বাবা সরদার ফরিদ উদ্দিন ছিলেন গোবিন্দপুর খেয়াঘাটের মাঝি। ৫ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে শাহিন বড়। তার এক ভাই ব্যাংকে চাকরি করেন। আরেক ভাই কুমিল্লা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার। এখন তারা অবস্থাসম্পন্ন। পলাতক শাহিন আলম বিবাহিত।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মো. শাহিন আলমের পাসপোর্ট নম্বর: অ১৫...১১৬৯। তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরই (০১৭২৫..১৯৯০ ও ০১৭১২..৫৯৯৯) বন্ধ পাওয়া যায়। গত ২১ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তা তরীকুল ইসলাম কুমিল্লার আদালতে শাহিন আলমের বহির্গমন ও আগমনের সময় আটক এবং তার সম্পর্কে তথ্য প্রদানের জন্য অনুমতি চান। জানা গেছে, শাহিন আলমের মোবাইল নম্বরগুলোর সর্বশেষ লোকেশন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত দেখা যায়। এরপর আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়।

পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরাণীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে। পরদিন তাকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের নির্দেশে হাফিজুর রহমান বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার রয়েছেন। ২২ এপ্রিল কুমিল্লার আদালতে হাজির করার আগে ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে হাফিজুরের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেটি তনুর পোশাকে পাওয়া নমুনার সঙ্গে ম্যাচিং করে দেখা হবে। তবে রোববার পর্যন্ত সেই পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

এমএইচ

উখিয়ায় বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৬০৫ মেট্রিক টন

ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে মহাসড়কে রিজার্ভ ফোর্স মোতায়েন

টেকনাফের আলী ফিরেছেন ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে

সরাইলে সড়কের পাশ থেকে লাশ উদ্ধার

নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে চিকিৎসকদের মানববন্ধন

বাঁশখালীতে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

ফেনীতে ছাত্রদল নেতার ওপর হামলা, ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা

চট্টগ্রামে দেয়ালজুড়ে নতুন করে জুলাই গ্রাফিতি

দলের পুলিশ হতে চাইলে পরিণতি ভালো হবে না

নবীনগরে সড়কের কাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলন, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী