কক্সবাজারের রামু উপজেলায় একটি ভাড়া বাসা থেকে বেলাল উদ্দিন জিহাদ ওরফে বাদল (২৫) নামে এক টমটমচালকের গলাকাটা ও অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকে তার স্ত্রী তাহেরা বেগম আঁখি নিখোঁজ রয়েছেন, যিনি স্থানীয়ভাবে টিকটকার হিসেবে পরিচিত। তিনি রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের বাসিন্দা।
বুধবার উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরোংলোয়া এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত বাদল উপজেলার পূর্ব রাজারকুল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী আবুল কাশেমের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র বলছে, কয়েক দিন ধরে ভাড়া বাসাটি থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে রামু থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেতর থেকে বন্ধ দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। সেখানে বিছানার ওপর বাদলের গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখতে পায় পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, অন্তত তিন দিন আগে শ্বাসরোধের পর গলা কেটে ওই যুবককে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, পরিবারের অমতে আঁখিকে বিয়ে করায় স্বজনেরা বিষয়টি মেনে নেয়নি। পরে দাম্পত্য কলহের জের ধরে বাদল স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।
রাজারকুল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য স্বপন বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, নিহতের স্ত্রী আঁখি আগে বিবাহিত ছিলেন। এ কারণে পরিবার বিয়ে মেনে নেয়নি। কিছুদিন আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ হলে স্থানীয়ভাবে তা মীমাংসাও করা হয়েছিল।
তবে নিহতের পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে আঁখি পরিকল্পিতভাবে বাদলকে হত্যা করে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছে। তিন দিন ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না, মোবাইল ফোনও বন্ধ।
পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, এখনো মামলা হয়নি। মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে পলাতক স্ত্রীকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।