হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

বন্ধের পথে বিদেশি জাহাজে বাঙ্কারিং লাইটার জাহাজেও নেই জ্বালানি

সোহাগ কুমার বিশ্বাস, চট্টগ্রাম

আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলরত মাদার ভেসেলগুলো বিশেষায়িত জ্বালানি পয়েন্ট ফাইভ সালফার মেরিন ফুয়েল ব্যবহার করে। বড় বড় নৌবন্দরে জাহাজের রিফুয়েলিংয়ের সুযোগ রাখা হয়। যেকোনো আন্তর্জাতিক বন্দরের ক্ষেত্রে এ সুবিধা বাঙ্কারিং হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যে বন্দরে জাহাজের জ্বালানি নেওয়ার সুযোগ নেই, তাকে ‘নো বাঙ্কারিং পোর্ট’ বলা হয়।

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের নোঙরে ১৬টি প্রতিষ্ঠানের বিদেশি জাহাজে জ্বালানি সরবরাহের অনুমোদন আছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা থেকে বিশেষায়িত এ তেল সংগ্রহ করে ট্যাংকারে করে বিদেশি জাহাজের কাছে বিক্রি করেন মেরিন অয়েল ডিলাররা। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে চাহিদাপত্র দেওয়ার পরও পর্যাপ্ত পয়েন্ট ফাইভ সালফার মেরিন ফুয়েল পাচ্ছেন না ডিলাররা।

এদিকে, অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করা লাইটার জাহাজের মালিকরাও চাহিদামতো ডিজেল সরবরাহ পাচ্ছেন না। এতে অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহনও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস করে দেশের বিভিন্ন নদীবন্দর এবং ঘাটে খালাস করা হয় এসব লাইটার জাহাজ দিয়ে। বর্তমানে প্রায় এক হাজার ১০০ লাইটার জাহাজ অভ্যন্তরীণ রুটগুলোয় চলাচল করে। এরমধ্যে প্রতিদিন ৯০ থেকে ১০০ লাইটার জাহাজ পণ্য খালাসের শিডিউল পাচ্ছে। বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী এসব লাইটার জাহাজের জন্য প্রতিদিন আড়াই লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এখন বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ হাজার লিটার। একটি লাইটার জাহাজের চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জ যাতায়াতে প্রায় চার হাজার লিটার তেল প্রয়োজন। কিন্তু সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৪০০-৫০০ লিটার। সামান্য এ তেল নিয়ে কোনো জাহাজ রওনা করতে পারছে না। অন্যান্য যন্ত্রাংশ সচল রেখে জাহাজ নোঙর করে রাখতেই এ তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে।

বিডব্লিউটিসিসির মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ জানান, জ্বালানি তেলের এমন সংকট আগে কখনো হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি হয়, তার অন্তত ৮০ শতাংশই বহির্নোঙরে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে খালাস করে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হয়। সাধারণত ভোগ্যপণ্যই পরিবহন করা হয় নৌপথে। তাই মানুষের নিত্যপণ্যের বাজারের সঙ্গে লাইটার জাহাজ চলাচল সরাসরি জড়িত। এ কারণেই দেশে কখনো কখনো জ্বালানি তেলের সংকট হলেও তা এ খাতকে স্পর্শ করতে দেয়নি সরকার। কিন্তু এবার চাহিদার ছয়ভাগের একভাগ তেলও সরবরাহ করছে না। এমন সংকট দীর্ঘায়িত হলে বহির্নোঙরে জট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি নিত্যপণ্যের বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হবে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এ খাতের জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল বরাদ্দ চেয়ে ইতোমধ্যে সরকারের শীর্ষপর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাঙ্কারিং ডিলাররা জানান, বিপিসির বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়া সীতাকুণ্ডের জাহাজ ভাঙা শিল্প থেকে বিশেষায়িত এ জ্বালানি সংগ্রহ করে বিক্রি করেন তারা। তবে সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে তেলের দাম টনপ্রতি দেড়শ থেকে ২০০ ডলার দাম বেশি থাকে, যে কারণে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাঙ্কারিংয়ে খুব বেশি জ্বালানি বিক্রি করতে পারেন না তারা। কেবল যেসব জাহাজ হঠাৎ জ্বালানি সংকটে পড়ে, তারাই বাংলাদেশ থেকে তেল সংগ্রহ করে। তবে এ তেলের পরিমাণও নেহাত কম নয়। বর্তমানে প্রতি মাসে আড়াই থেকে তিন হাজার টন মেরিন ফুয়েলের চাহিদা রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিপিসির এক কর্মকর্তা জানান, মূলত সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাংলাদেশের বাজারে বিপিসির নির্ধারিত মেরিন ফুয়েলের দাম সব সময় বেশি থাকে। এ কারণে এতদিন সরকারি উৎসে চাহিদা কম ছিল। মূলত বিভিন্ন মাদার ভেসেল থেকে পয়েন্ট ফাইভ সালফার মেরিন ফুয়েল চোরাই পথে কিনে বিক্রি করতেন ডিলাররা। এ কারণে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা মেরিন ফুয়েল বিক্রির কাস্টমার পেত না। যুদ্ধের কারণে চলতি মাসের শুরুতে সিঙ্গাপুরের বাজারে মেরিন ফুয়েলের দাম বাড়তে শুরু করে। এখন বাংলাদেশের চেয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে এ তেলের দাম বেশি। এ কারণেই অতিরিক্ত চাহিদাপত্র দিতে শুরু করেছেন ডিলাররা। আগে থেকে খুব একটা বিক্রি না হওয়ায় মেরিন ফুয়েল মজুতের দিকে নজর দেয়নি বিপিসি। সংকটটি হয়েছে সেখানেই। মূলত এখন লোকাল মার্কেটের চেয়ে চোরাই মার্কেটে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সবাই লোকাল বাজারে ঝুঁকছেন।

বিপিসির অপারেশন ও বাণিজ্য বিভাগের জিএম মোরশেদ হোসাইন আজাদ জানান, মেরিন ফুয়েলের মজুত একেবারে শেষ হয়নি। দামের কারণে ডিলাররা বিপিসি থেকে আগে এ তেল সংগ্রহ করতেন না। বিকল্প উৎস থেকে নিয়েই চাহিদা মেটানো হতো। গত পাঁচ মাসে পাঁচ হাজার টন মেরিন ফুয়েলও বিক্রি করতে পারেনি বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলো। এ বাস্তবতায় ডিলাররা আগে যেভাবে চাহিদা দিতেন, বর্তমানে সেভাবেই সরবরাহ করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী এখনো সংকট তৈরি হয়নি।

চট্টগ্রাম বন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, মেরিন ফুয়েল সংকটের বিষয়টি নিয়ে বন্দর উদ্বিগ্ন। কারণ, মেরিন ফুয়েলের সরবরাহ না থাকলে নো বাঙ্কারিং পোর্ট ঘোষণা করতে হবে। এটা হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চট্টগ্রাম বন্দরের মান কমে যাবে। এ কারণেই ইতোমধ্যে ডিলার ও বিপিসির সঙ্গে আলোচনা করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিপিসি থেকে জানানো হয়েছে, ৮০ শতাংশ ডিজেলের সঙ্গে ২০ শতাংশ ফার্নেস অয়েল মিশিয়ে প্রক্রিয়াজাত করলেই মেরিন অয়েল তৈরি করা যায়। এ প্রযুক্তি বাংলাদেশে আছে। তাই নো বাঙ্কারিং পোর্ট ঘোষণা করার মতো অবস্থা তৈরি হবে না।

কক্সবাজারে ঈদের ছুটি কাটাতে অগ্রিম হোটেল বুকিংয়ের হিড়িক

উখিয়ায় ৭ শতাধিক পরিবারকে ঈদ উপহার

বিগত সরকার বাপেক্সকে পঙ্গু করে রেখেছিল: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট, ককটেল বিস্ফোরণে আহত ৭

বিআরডিবি চেয়ারম্যান অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, ১ জন গ্রেপ্তার

টিকিট মজুদ ও মূল্য তালিকা না থাকায় ২ কাউন্টারকে জরিমানা

আমরা দেশ প্রেমিক সরকার: পানিসম্পদ মন্ত্রী

নোয়াখালীতে নিখোঁজের দুই দিন পর ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

মালদ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে লক্ষ্মীপুরের তাজউদ্দিন নিহত

ফরিদগঞ্জে প্রতিপক্ষের ঘুষিতে সিএনজি চালক নিহত, আটক ৩