মূল পরিকল্পনাকারী ২ কিশোর
চাঁদপুরের কচুয়ায় চাঞ্চল্যকর ‘ক্লুলেস’ স্কুলছাত্র শাকিব হাসান (১১) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে কচুয়া থানার পুলিশ। ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজের প্রায় দুই মাস পর ভিকটিমের মাথার খুলি ও শরীরের হাড় উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো আরমান গাজী (১৭) ও মেহেদী হাসান গাজী (১৭)। কচুয়া থানার ওসি আজিজুল ইসলাম রোববার রাতে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, নিহত শাকিব হাসান উপজেলার ১নং সাচার ইউনিয়নের জয়নগর (গাজীবাড়ী) গ্রামের সৌদি-প্রবাসী আব্দুল কাদেরের ছেলে। স্থানীয় রাগদৈল আইএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল সে। গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে বাইরে থেকে কেউ নাম ধরে ডাক দিলে ঘর থেকে বের হয়ে যায় শাকিব। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিল।
পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে শাকিবের দাদা মোন্তাজ উদ্দিন কচুয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। খবর পেয়ে ভিকটিমের বাবা সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে ছেলেকে খুঁজতে থাকেন।
পরবর্তীকালে ২৪ নভেম্বর ২০২৫ স্থানীয় মোস্তফা নামের এক ব্যক্তি তার কৃষিজমির পাশে ডোবা পরিষ্কার করার সময় মানুষের মাথার খুলি ও হাড়ের অংশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। কচুয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাথার খুলি ও হাড়ের সাতটি অংশ উদ্ধার করে অপমৃত্যু মামলা করে। পরে উদ্ধারকৃত আলামত সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে পরীক্ষায় সেগুলো শাকিব হাসানের বলে নিশ্চিত হয়।
ডিএনএ রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নিহতের বাবা আব্দুল কাদের বাদী হয়ে গত ৭ মে ২০২৬ কচুয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার রবিউল হাসানের দিকনির্দেশনায় কচুয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হাই এবং কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আজিজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম তদন্ত শুরু করেন। সোর্স সহায়তায় পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরে গত ৮ মে সন্ধ্যা থেকে ৯ মে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টার অভিযানে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যার দায় শিকার করে জানায়, তারা শাকিবকে পুকুরে গোসল করার সময় পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করে। পরে লাশ পানির নিচে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। রাতে লাশ তুলে হাত-পা কেটে বস্তাবন্দি করে ইট বেঁধে পানির নিচে ফেলে দেয়, যাতে লাশ ভেসে না ওঠে।
রোববার সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠায়।