সীতাকুণ্ডে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণিল আয়োজনে। সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রত্যয়কে সামনে রেখে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো উপজেলা।
দিনের শুরুতেই উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে বের হয় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, যা প্রধান সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বৈশাখী সাজ, রঙিন মুখোশ, ঢোল-বাদ্য এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যের সমাহারে শোভাযাত্রাটি প্রাণবন্ত ও দৃষ্টিনন্দন হয়ে ওঠে, যা বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
পরে উপজেলা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসলাম চৌধুরী বলেন, সংস্কৃতি চর্চা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই একটি আদর্শ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি সীতাকুণ্ডকে একটি আধুনিক, শিক্ষাবান্ধব ও উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তার, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, মানুষের ভয়মুক্ত চলাফেরা এবং সর্বস্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করাই হতে হবে আমাদের লক্ষ্য। তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীল ও ইতিবাচক ধারায় রাখতে সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি সমাজকে সুস্থ ও প্রগতিশীল ধারায় এগিয়ে নিতে সহায়ক। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে মানুষের স্বাধীনভাবে উৎসব উদযাপনের সুযোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা বহন করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন। এছাড়াও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভা শেষে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় লোকসংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাট্যাংশ দর্শকদের মুগ্ধ করে। দিনব্যাপী চিত্রাঙ্কন, রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়, যা শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
এদিকে, একই দিন সীতাকুণ্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজেও পৃথকভাবে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসলাম চৌধুরী কলেজের শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে এটিকে একটি সরকারি কলেজে রূপান্তরের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।