কক্সবাজারের রামু উপজেলায় ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতা শতাধিক নারী ও পুরুষ গ্রাহকের সাথে 'গণশুনানি' করেছে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি। এ গণশুনানিতে প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদের নারী ও পুরুষরা ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে নিজেদের সমস্যা ও আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন। এ গণশুনানিতে প্রধান অতিথি মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
কক্সবাজার অঞ্চলে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম চালানো বেসরকারি সংস্থা ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) ও কোস্ট ফাউন্ডেশন যৌথভাবে রোববার (১২ এপ্রিল) এ গণশুনানির আয়োজন করে। এছাড়াও গণশুনানির আগে তথ্য অধিকার বিষয়ক সভাও করা হয়।
এই আয়োজনে অংশ নেয়া নারী গ্রাহকরা ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণে ঋণদাতা সংস্থা গুলোর নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি নিজেদের এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সমস্যা, সামাজিক খাতে এনজিও গুলোর ব্যয় এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহকদের সেবা প্রদানের উপর জোর দেয়া হয়, বিশেষ করে নারী ও পর্যটন খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নের কথা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছাড়াও কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এম রেজাউল করিম চৌধুরী ও ইপসা'র প্রধান নির্বাহী ড. এম আরিফুর রহমান বক্তব্য রাখেন। গণশুনানি পরিচালনা করেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথি মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, বিশুদ্ধ পানি সমস্যা সমাধানে প্রতিষ্ঠান গুলো সরাসরি দায়িত্ব না নিলেও বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করলে কিছুটা সমাধান হতে পারে।
তিনি বলেন, বেসরকারি সংস্থাগুলো লাভ ভাগ করে না নিয়ে গ্রাহকদের সেবা প্রদান বা সামাজিক খাতে ব্যয় করতে পারে, যা তাদের সরকারি ও বেসরকারি খাতের মাঝামাঝি অবস্থানে রাখতে সহায়তা করে।
ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আইন ও বিধিমালা পরিবর্তনের মাধ্যমে বেশি তহবিল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন উইন্ডো থেকে কনসেশনাল ফান্ড আনার জন্য লবিং করা হচ্ছে।
তার মতে, কক্সবাজারে রেললাইন হওয়ার পর নতুন পর্যটন চাহিদা তৈরি হয়েছে, যা পেশাদারিত্ব এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। পর্যটন খাতকে সম্প্রসারিত করে স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা একটি ভালো আইডিয়া হতে পারে।
এ গণশুনানি ও তথ্য অধিকার বিষয়ক সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের পক্ষে থেকে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং ইপসা'র পক্ষে পরিচালক (অর্থনৈতিক উন্নয়ন) মো. মনজুর মোরশেদ চৌধুরী, উপ-পরিচালক ও কক্সবাজার রিজিওনাল প্রধান মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
গণশুনানি ও তথ্য অধিকার বিষয়ক সভায় অংশগ্রহণকারী গ্রাহকরা সার্ভিস চার্জের হার কমানো, লবণাক্ততা এলাকায় সুপেয় ও নিরাপদ পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন, আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের জন্য অনুদান সহায়তা এবং কৃষি খাতে গ্রেস পিরিয়ড চালুর মত বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এম. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, কক্সবাজারে প্রচুর পর্যটক আসে প্রতিবছর। এই জনপদের তরুণদের আরও দক্ষ করতে ১২টা ট্রেডের উপর প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করছে কোস্ট ফাউন্ডেশন। এই এলাকার পানির সমস্যা সমাধানে সরকারের সাথে ইপসা ও কোস্ট যৌথভাবে কাজ করবে।
ইপসা'র প্রধান নির্বাহী ড. মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, ইপসা'র নিজস্ব তহবিল ও পিকেএসএফ থেকে তহবিল সংগ্রহ করে গ্রাহকদের উন্নয়নের লক্ষ্যে ঋণ প্রদান করে থাকে।