খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন-উর রশীদ বলেছেন, বিএনপি সরকার নির্বাচনের আগে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা বাস্তবায়ন করে দেখাচ্ছেন। এছাড়াও দেশে যে পরিমাণ খাদ্য মজুদ আছে তা চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে এবং যুদ্ধের কোন প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করছেন তিনি।
গতকাল (বুধবার ১৮ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিমপুর হাইস্কুল মাঠে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী আমিনুর রশিদ।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক সরকার নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা ভুলে গেছে। কিন্তু বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ব্যতিক্রম। তিনি উল্লেখ করেন, এটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের দল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রমাণ করছেন—বিএনপি যা বলে, তাই করে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে সম্প্রসারিত হবে।
একইভাবে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে এই কর্মসূচি উদ্বোধন হবে এবং প্রথম ধাপে ১১টি জেলায় কার্ড বিতরণ করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষকদের সুরক্ষায় কৃষি ইনস্যুরেন্স চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বন্যা বা খরায় ফসল নষ্ট হলে কৃষকরা এই ইনস্যুরেন্সের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পাবেন। পাশাপাশি, সরকার কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে বলেও জানান তিনি।
কৃষি খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। কৃষকরা যেন তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পান, সে জন্য সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ফসল ক্রয়ের উদ্যোগ নিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মৌসুমভিত্তিক মূল্য পতন ঠেকাতে এলাকা ভিত্তিক মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা ফসল সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের উর্বর মাটি, অনুকূল আবহাওয়া ও সেচ ব্যবস্থার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কৃষি খাত অল্প সময়েই অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী খাতে পরিণত হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামানসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির আওতায় প্রতিজন উপকারভোগীকে ৩০ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়।