হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যার প্রধান আসামি প্রকাশ্যে, তবু তাকে খুঁজে পাচ্ছে না প্রশাসন

চট্টগ্রাম ব্যুরো

র‍্যাবের ডিএডি আব্দুল মোতালেব হত্যার প্রধান আসামি মো. ইয়াসিন। সীতাকুণ্ডের জঙ্গল ছলিমপুরের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ হিসেবে পরিচিত। হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত হয়েও তিনি দিব্যি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, এমনকি আলীনগরে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিক ডেকে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন।

একজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি কীভাবে এভাবে প্রকাশ্যে সক্রিয় থাকতে পারছেন? এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে যেমন বিস্ময়, তেমনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠে গেছে। তাহলে ইয়াসিনকে সুরক্ষা দিচ্ছে কারা?

এমনকি গত বুধবার বিকেলে আলীনগরে নিজের পুরোনো কার্যালয়ে ‘কথিত সংবাদ সম্মেলন’ ডেকে ইয়াসিন সরাসরি র‍্যাব ও প্রশাসনের বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, আমার এলাকায় প্রশাসন ঢুকতে হলে আগে আমাকে জানাতে হবে। কোনো হয়রানি হলে দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে। হত্যা মামলায় পলাতক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর খোঁজে থাকা ব্যক্তির মুখে এমন দম্ভ ! এটি শুধু স্থানীয়দের নয়, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদেরও বিস্মিত করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ইয়াসিন অভিযোগ তোলেন, র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যার নেপথ্যে তার প্রতিপক্ষ রোকন উদ্দিন মেম্বার জড়িত। আর রোকনের ‘রাজনৈতিক শক্তি’ হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম–৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী লায়ন আসলাম চৌধুরীর নাম টানেন।

ইয়াসিন বলেন, রোকন যা করছে, সবই আসলাম চৌধুরীর শক্তিতে। তার ১৭০০ কোটি টাকা ঋণ। ৪৫০ কোটি টাকার সম্পদ আছে। বাকি সাড়ে বারোশো কোটি কোথায়?

এমন বক্তব্যে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সম্পর্ক, যোগাযোগ ও সম্ভাব্য সুরক্ষা-ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদ আমার দেশ–কে বলেন, একজন র‍্যাব কর্মকর্তার হত্যার প্রধান আসামি যদি প্রকাশ্যে মিছিল, শোডাউন, এমনকি সংবাদ সম্মেলনও করতে পারেন, তাহলে এটি শুধু একটি মামলার ব্যর্থতা নয় এটি গোটা নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতার নগ্ন প্রদর্শন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে অবশ্যই তাকে ধরতে পারত। কিন্তু যখন কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক ছায়া, স্থানীয় প্রভাব বা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার ফাঁক গলে শক্ত অবস্থান তৈরি করে ফেলে, তখন তাকে গ্রেপ্তার করতে দেরি হয় না ইচ্ছাশক্তিই হারিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আসামির প্রকাশ্যে দাপট দেখানো দুটি বার্তা দেয়। এক, সে আইনকে ভয় করছে না; দুই, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর তার প্রভাব বা সুরক্ষা রয়েছে। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা। কারণ এতে সাধারণ মানুষের মনে ধারণা তৈরি হয় এ দেশে সন্ত্রাসী বা খুনির চেয়েও শক্তিশালী হয়ে ওঠে তার পেছনে থাকা সেই ছায়াশক্তিগুলো।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহিনুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, ইয়াসিন জঙ্গল ছলিমপুর এলাকা থেকে বের হচ্ছে না। সেখানেই সংবাদ সম্মেলন করছে। এলাকাটি ভৌগোলিকভাবে জটিল, তার নিজস্ব লোকজনও রয়েছে সেখানে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা খুব শিগগিরই তাকে আইনের আওতায় আনতে পারব।
উল্লেখ্য, ১৯ জানুয়ারি বিকেলে র‍্যাব–৭–এর প্রতিনিধিত্বকারী বিজিবির নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেবকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার সঙ্গে থাকা র‍্যাবের আরো দুই সদস্য এবং একজন সোর্সকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। ঘটনার দুদিন পর র‍্যাব-৭ বাদী হয়ে বুধবার রাতে সীতাকুণ্ড থানায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০–২০০ জনকে আসামি করে মামলা করে।

এনসিপিতে যোগ দিলেন বিএনপির সাবেক নেতাকর্মী

নিখোঁজের ৮দিন পর কলেজ ছাত্রের লাশ মিলল ট্যাংকিতে, আটক ১

চট্টগ্রামে দেশ গঠনের রূপরেখা উপস্থাপন করবেন তারেক রহমান

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি করবো না কাউকে করতেও দেবো না

এনসিপি প্রার্থীকে আসন দিলেও জামায়াতের নাসেরকে ছাড়তে পারছে না সমর্থকরা

চাঁদপুরে শ্রমিক লীগ নেতা শামীম গ্রেপ্তার

তারেক রহমানকে যে বার্তা দিতে চান ফেনীর জুলাই শহীদ পরিবার ও যোদ্ধারা

চকরিয়ায় জামায়াতের মার্চ ফর দাঁড়িপাল্লা কর্মসূচি পালন

রোববার কুমিল্লা ৩ জনসভায় বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান

নৌবাহিনীর অভিযানে মাদক, অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক ৩