চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে শুরু হয়েছে ঐতিহাসিক আব্দুল জব্বারের বলীখেলা। শনিবার বেলা ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে এই খেলা শুরু হয়।
জব্বারের বলীখেলা আয়োজক কমিটির সদস্য ও আব্দুল জব্বারের নাতি আকতার আনোয়ার চঞ্চল বলেন, ইতিমধ্যে ১৩০ জন বলীখেলায় অংশ নিতে নাম জমা দিয়েছেন। প্রথম পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট ও ৩৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ক্রেস্ট ও ৩০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কার ক্রেস্ট ও ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হবে।
সরেজমিন লালদীঘির পাড়ে গিয়ে দেখা গেছে, সিনেমা প্যালেস, লালদীঘির পাড়, আন্দরকিল্লা, জেল রোড়, হাজারী গলির মুখ, মহল মার্কেটসহ আশপাশের এলাকায় জমে উঠেছে বৈশাখী মেলা। শুক্রবার শুরু হওয়া এই মেলা আজ বিকেলেই শেষ হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েক হাজার অস্থায়ী দোকানি নানা রকম পণ্য নিয়ে বিক্রি শুরু করেছেন। বিশেষ করে বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার, হস্তশিল্প, মৎশিল্পের পণ্যগুলো শোভা পাচ্ছে মেলায়। সিলেট, গাজীপুর, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, যশোরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে বিক্রেতারা গত বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামে আসেন। এরপর শুক্রবার ভোর থেকেই তারা পণ্য সাজিয়ে ক্রেতাদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।
এর আগের দিন শুক্রবার বিকেলে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না লালদীঘিতে। আন্দরকিল্লা থেকে আদালতের প্রবেশ মুখ, অপরদিকে সিনেমা প্যালেস থেকে মহল মার্কেট ও হাজারী গলি সড়ক পুরোটাই জমজমাট বাণিজ্যের কেন্দ্রে রূপ নেয় ছুটির দিনে। এসব দোকানের অধিকাংশই পোড়ামাটির তৈজসপত্রের। বিশেষ করে মাটির তৈরি ব্যাংক, ফুলদানি, কলস, হাঁড়ি, পানির পাত্র, পিঠার ছাঁচ, মাটির গ্লাস, মগসহ নানা রকম গৃহস্থালী জিনিসপত্র। এছাড়া বেতের মোড়া, ফুলদানি, শোফা, চেয়ার, টেবিলসহ ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসের দেখা মিলেছে মেলায়। পাশপাশি সিলেটের মৌলভীবাজারের শীতলপাটি, চট্টগ্রামের চন্দনাইশের হাতপাখা, সুতোর তৈরি দোলনা, ব্যাগ, পাটের জিনিসপত্র বিক্রি চলছে হরদম।
সিলেটের বালাগঞ্জ থেকে এসেছেন শীতলপাটির ব্যবসায়ী কালাচাঁন। তিনি বলেন, ‘তিনজনের একটি দল নিয়ে গত বুধবার এসেছি। এবার ১২০টি পাটি নিয়ে এসেছি। এখন শীতলপাটির কদর কমেছে। কারণ আগের চেয়ে মানুষ প্লাস্টিকে ঝুঁকেছে বেশি। তবু ঐতিহ্য টেকাতে আমি ২২ বছর ধরে মেলায় পাটি বিক্রি করছি। ২ হাজার থেকে ১১ হাজার টাকা দামের পাটিও আমার কাছে আছে। তিনি বলেন, একটি পাটি তৈরিতে ৩-৪ জন কাজ করেন। এখন মজুরিও অনেক বেশি। পাটির ব্যবসায় কোনোভাবেই পোষায় না। এর পরও আমাদের আর কোনো উপায় নেই, এটিই এখন পেশা ও নেশা।
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থেকে এসে তালপাতার পাখা বিক্রি করছেন বাবলু সরকার। তিনি বলেন, প্রতি জোড়া হাতপাখা ৫০০ টাকা। মানে ভালো হওয়ায় প্রতিটি পাখা আড়াইশ টাকায় বিক্রি করছি। হাতে ঘুরাতেই তালপাতার পাখার বাতাস শরীরে প্রশান্তি আনে।
এদিকে বলীখেলা ঘিরে ড্রোন নজরদারি, সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করেছে সিএমপি। এছাড়া বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সোয়াট কাজ করছে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক আনসার, পুলিশ ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মেলা ও খেলায় চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাংসহ অপরাধ দমনে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএমপির জনসংযোগ কর্মকর্তা (সহকারী পুলিশ কমিশনার) আমিনুর রশিদ।
জেডএম