চট্টগ্রামের পটিয়ায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৪টি গরু ও নগদ ৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লুটের ঘটনা ঘটেছে। লুট হওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মনসা এলাকায় মুহাম্মদ নুরুল আলমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নুরুল আলম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বসতঘরের পাশে থাকা গোয়ালঘরেই রাতে অবস্থান করছিলেন নুরুল আলম। গভীর রাতে ১০–১২ জনের একটি মুখোশধারী ডাকাতদল গোয়ালঘরের দরজার লোহার শিকল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর ডাকাতরা বসতঘরে ঢুকে স্টিলের আলমারি ভেঙে নগদ ৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি গোয়ালঘর থেকে লাল বর্ণের ৪টি ষাঁড় গরুও নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী নুরুল আলম জানান, ডাকাতদের কাছে বন্দুক, পিস্তলসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল। তারা প্রথমে তাকে ও তার স্ত্রীকে একটি কক্ষে বেঁধে রেখে পরে টাকা ও গরু লুট করে। তিনি আরও জানান, নগদ টাকাগুলো গরু ও মাছ বিক্রির অর্থ এবং এক স্বজনের কাছ থেকে পাওয়া পাওনা ছিল, যা আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ব্যবসা ও ঘর মেরামতের জন্য সংরক্ষণ করেছিলেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল মোতালেব মনু মেম্বার বলেন, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক করেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগী নুরুল আলম মূলত চকরিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং পটিয়ায় একটি কারখানায় চাকরির পাশাপাশি গরু লালন-পালন করতেন। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় গরু চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ-এর পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউল হক জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে কেলিশহর ইউনিয়নে এক প্রবাসীর বাড়িতে চুরি করে স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ২০ লাখ টাকা লুটের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ভাটিখাইন, পৌর সদর ও নাইখাইনসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক গরু ও মহিষ চুরির ঘটনাও ঘটেছে।