লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট হামিদিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনের বিরুদ্ধে সরকারি বই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। প্রথমে অস্বীকার করলেও ঘটনাটি জানাজানি হলে তিনি বিষয়টি শুনেছেন বলে স্বীকার করেন।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে কিছু ফুটেজ আসে। ফুটেজে দেখা যায়, মাদ্রাসার প্রধান ভবনের গেটের সামনে একটি ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে এবং মাদ্রাসা থেকে ট্রাকে বই তোলা হচ্ছে।
এর আগে শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিন দুপুরে বই বিক্রির এই ঘটনাটি ঘটে।
অভিযুক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় স্বেচ্ছাচারিতা, আর্থিক অনিয়ম ও শিক্ষক-কর্মচারীদের হয়রানিরও অভিযোগ করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
দিনদুপুরে উপজেলার পরিচিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি পাঠ্যবই বিক্রির ঘটনা প্রকাশ পেলে এলাকায় তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের দেয়া বিনামূল্যের বই বিক্রির ঘটনায় তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল।
জানা গেছে, অতিরিক্ত চাহিদা দেখিয়ে অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসাইন বই সংগ্রহ করে মাদ্রাসার স্টোররুমে মজুত রাখেন। পরে সুবিধাজনক সময়ে তার অনুগত পিয়নের মাধ্যমে কেজি দরে বই বিক্রি করেন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার পিয়ন আবদুর রহিমকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ‘ছুটির দিনে আমি মাদ্রাসায় ছিলাম না, তবে বই বিক্রির ঘটনাটি শুনেছি।’
বছরের শেষ দিকে এখনো বই মজুত থাকা এবং স্টোররুমের চাবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি শুনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।