হোম > সারা দেশ > ঢাকা

ধরা পড়ে ৪০০ বস্তা চাল ফেলে উধাও ট্রাক চালক ও হেলপার

জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর

শরীয়তপুরে সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ চাল বের হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে রহস্য ও বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে চালগুলো সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। স্থানীয় জনতা একাধিকবার ট্রাকসহ চাল আটক করে প্রশাসনকে অবহিত করলেও দীর্ঘ সময় তাদের নীরব ভূমিকা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে আংগারিয়া খাদ্যগুদাম থেকে একটি ট্রাকে করে সরকারি সিলযুক্ত প্রায় ৪০০ বস্তা চাল কোটাপাড়া এলাকায় নেওয়া হচ্ছিল। ট্রাকটি পালং মডেল থানা সংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে সন্দেহবশত স্থানীয়রা সেটি থামায়। এ সময় চালক ও হেলপার দাবি করেন, চালগুলো ওজনের জন্য প্রেমতলা এলাকায় নেওয়া হচ্ছে। তবে কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা সেখান থেকে সটকে পড়েন, যা সন্দেহ আরো বাড়িয়ে দেয়।

পরে গুদাম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে একটি চালান ফরম দেখিয়ে দাবি করেন, এগুলো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় রুদ্রকর ইউনিয়নের ‘মানিক মাহমুদ খাদ্য বান্ধব’ ডিলারের নামে বরাদ্দকৃত চালের অংশ। কিন্তু ঘটনাস্থলেই সংশ্লিষ্ট ডিলারের মালিক বোরহান উদ্দিন জানান, এ চাল তার নয় এবং তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তার এমন বক্তব্যে পুরো বিষয়টি আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে।

ঘটনার পর স্থানীয়রা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানালেও প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত কেউ ঘটনাস্থলে আসেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সন্ধ্যায় পুলিশ ট্রাকসহ চাল থানার গেটে নিয়ে যায়। কিন্তু একই চালান ফরম দেখিয়ে পুনরায় চালগুলো সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চৌরঙ্গী এলাকায় আবারও সেগুলো আটক করেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে পালং মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, ডিলারের ম্যানেজার পরিচয়ে একজন কাগজপত্র নিয়ে আসেন এবং উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তা সঠিক বলে নিশ্চিত করা হলে চাল ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দুপুরে যে ডিলার চাল অস্বীকার করেছিলেন, পরবর্তীতে সেই একই চালানকে বৈধ দেখিয়ে একটি অসাধু চক্র চালগুলো ছাড়িয়ে নেয়। প্রশ্ন উঠেছে—যাচাই-বাছাই ছাড়া কীভাবে থানা থেকে সরকারি চালবাহী ট্রাক ছেড়ে দেওয়া হলো?

এদিকে মধ্যরাতে সদর উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ আলম ট্রাকসহ চালগুলো গুদামে নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েন। পরে কৌশলে গভীর রাতে চালগুলো গুদামে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান আল নাজির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত চাল আটক ছিল, কিন্তু প্রশাসনের কেউ দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসেনি। তাহলে রাতের আঁধারে কারা, কীভাবে এই চাল নিয়ে গেল—এ প্রশ্নের উত্তর চাই।

অপর বাসিন্দা মহিউদ্দিন বেপারী বলেন, তদন্ত হলে সব বের হয়ে আসবে। দিনের বেলা কেউ এল না, অথচ রাতে চাল সরিয়ে নেওয়া হলো—এটা রহস্যজনক।

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়ুন কবির জানান, চালগুলো জব্দ করে গুদামে নেওয়া হয়েছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হবে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে চাল সরানো হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এ ঘটনার পরও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে ক্ষোভ ও সন্দেহ আরও বেড়েছে।

সরকারি খাদ্যসামগ্রী নিয়ে এমন রহস্যজনক ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এখন সর্বত্র আলোচনা চলছে। সচেতন মহল বলছে, স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা না হলে এ ধরনের অনিয়ম আরও বাড়বে।

গোয়ালন্দে পদ্মার দুই কাতল বিক্রি লাখ টাকায়

ভুট্টাক্ষেতে মিলল শিশুর লাশ, গণপিটুনিতে নিহত দুই ভাই

সেই কবির হোসেন প্রকৃত কৃষক

আ. লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১১ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

দুর্নীতি মামলায় মানিকগঞ্জের সাবেক মেয়র আ. লীগ নেতা রমজান আলী কারাগারে

সাভারে সহপাঠীকে হত্যার ঘটনায় মাদরাসা ছাত্র গ্রেপ্তার

বৈশাখী মেলার আড়ালে জুয়ার আসর, প্রশাসনের অভিযানে বন্ধ

নিজের কিডনি দিয়ে স্ত্রীর জীবন বাঁচালেন স্বামী

ফেরি থেকে চালকসহ নদীতে পড়ে গেল প্রাইভেটকার

পদ্মার এক কাতল অর্ধলক্ষ টাকায় বিক্রি