ল্যাম্পপোস্টে আটকে পড়া একটি শালিক পাখি। বাতাসে ভেসে আসছে প্রাণ বাঁচানোর আর্তচিৎকার। সহমর্মী অন্য পাখিদের উৎকণ্ঠিত ডানা ঝাপটানি দেখে পথচারীরাও থমকে দাঁড়ায়। সড়কের পাশে একটি ল্যাম্পপোস্টের মাথায় শালিক পাখিটির পা আটকে যায়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই আশপাশের আরও অনেক পাখি জড়ো হয়ে কিচিরমিচির শব্দ তুলে সঙ্গীটিকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে। ঘটনাটি দেখতে স্থানীয় জনতা জড়ো হলেও কেউ ল্যাম্পপোস্টে উঠে উদ্ধারের সাহস পায়নি।
দীর্ঘক্ষণ আটকে পড়া অসহায় পাখিটির আর্তচিৎকারে চারপাশে ক্রমেই বাড়তে থাকে উৎসুক জনতার ভিড়। এর পরও কেউ এগিয়ে আসছে না।
এমন সময় এগিয়ে আসেন সুমন নামের এক যুবক । কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই তিনি দ্রুত ল্যাম্পপোস্ট বেয়ে ওপরে উঠে আটকে পড়া পাখিটিকে সতর্কতার সঙ্গে মুক্ত করেন এবং নিরাপদে পাখি উদ্ধার করে ছেড়ে দেন মুক্ত আকাশে । এ সময় উপস্থিত সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।
সুমনের উদ্ধারকর্মের এই সাহসিকতায় উপস্থিত জনতা করতালি দিয়ে আনন্দে ফেটে পড়ে। সাহসী সুমন শেখ উপজেলার গোয়ালঙ্ক গ্রামের মুজিবুর শেখের ছেলে। পেশায় ভ্যানচালক।
ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার পশ্চিমপাড় এলাকায়। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক দিপক গাইন বলেন, পাখিটি উদ্ধারের জন্য কোটালীপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের আসতে দেরি হচ্ছিল। এমন অবস্থায় সুমনের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, অনেকেই শুধু দাঁড়িয়ে দেখছিল, কেউ ঝুঁকি নিতে চায়নি। সুমন যেভাবে এগিয়ে এসেছে, এটা সত্যিই মানবিকতার বড় উদাহরণ।
উদ্ধারকারী সুমন শেখ বলেন, ‘পাখিটা অনেকক্ষণ ধরে কষ্ট পাচ্ছিল। দেখে আর স্থির থাকতে পারিনি। আল্লাহর ওপর ভরসা করে উঠে পড়ি। পাখিটাকে বাঁচাতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, একটা ছোট প্রাণ বাঁচাতে নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলা সহজ নয়। সুমনের এই কাজ আমাদের সবাইকে মানবিক হতে শেখায়।
স্থানীয়রা জানান, সুমন শেখের এই মানবিক উদ্যোগ শুধু একটি ঝুটশালিক পাখির জীবনই রক্ষা করেনি, বরং সমাজে সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।
পুনর্লিখন: এমএইচ