রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে সাম্প্রতিক বাস ডুবির ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাকারিয়া।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে তিনি দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে উপস্থিত হয়ে সার্বিক পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে তিনি ফেরিঘাটের কার্যক্রম, যানবাহন পারাপারের বর্তমান অবস্থা, যাত্রীসেবা এবং অবকাঠামোগত সুবিধাসমূহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন দিক নিয়ে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শন শেষে মো. জাকারিয়া সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং ফেরিঘাটের কার্যক্রম সুশৃঙ্খল ও স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আইন ও নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী সকল যানবাহন ও যাত্রীকে ফেরিতে ওঠানামা নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস, বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা, বিআইডব্লিউটিএর মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ার) এ কে এম ফজলুল হক, চিফ ইঞ্জিনিয়ার মহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, গত ৫ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে আগত এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেরির ডালায় আঘাত করে। এতে ডালার শিকল ছিঁড়ে বাসটি সরাসরি নদীতে ডুবে যায়। তবে নৌপুলিশের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় যাত্রীরা আগেই নেমে যাওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। চালক ডুবন্ত বাসের জানালা ভেঙে বের হয়ে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন এবং সহকারীও পল্টনে লাফ দিয়ে প্রাণে রক্ষা পান।
এর আগে গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরি ঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে ২৬ জন যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়, যা দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলে।