ঢাকার কেরানীগঞ্জে শ্রমিকদল নেতা আউয়াল ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে হাসনাবাদ হাউজিংয়ের প্লট ও প্রজেক্টের রাস্তাসহ জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত আউয়াল ভূঁইয়া দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা শ্রমিকদলের সাবেক আহ্বায়ক।
তার বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লবের পর ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাস্তা আবার বন্ধ করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া স্থানীয়রা তার বিরুদ্ধে ব্যাপক হয়রানির অভিযোগ করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ বাজার ও পানগাঁও নৌ কনটেইনার পোর্টের রাস্তার পাশে হাসনাবাদ হাউজিংয়ের অবস্থান। হাউজিংয়ের মালিক শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের মৃত্যুর পর তার অনেক সম্পদ বেহাত হয়ে যায়।
এর মধ্যে হাসনাবাদ হাউজিং, হাসনাবাদ সুপার মার্কেট, ইন্টারন্যাশনাল অ্যামুজমেন্ট ক্লাব, বেয়ারা প্রজেক্ট ও চান্দেরচর বিসিআরএসপি প্রজেক্ট অন্যতম। এর মধ্যে হাসনাবাদ হাউজিংয়ের তিন কাঠার প্লট ও প্রজেক্টের রাস্তাসহ পাঁচ কাঠা জমি দখল করেন বিএনপি নেতা আউয়াল ভূঁইয়া আর হাসনাবাদ সুপার মার্কেট দখল করেন আওয়ামী সন্ত্রাসী কালা জরিফ।
ক্রয় সূত্রে হাসনাবাদ হাউজিংয়ের প্লট মালিক ওয়াহিদুল ইসলাম, নিলুফা বেগম, আল আমিন রহমান ও শাজাহান বিশ্বাস জানান, তারাসহ এলাকার শতাধিক ব্যক্তি ২০০৬ সাল থেকে হাসনাবাদ আবাসিক হাউজিংয়ের প্লট কিনে বসবাস করে আসছেন।
জুলাই বিপ্লবের পর হাসনাবাদ হাউজিংয়ের সঙ্গে পানগাঁও নৌ কনটেইনার রোডের (প্রধান সড়ক) যাতায়াতের সংযোগ রাস্তা বন্ধ করে দেন বিএনপি নেতা আউয়াল ভূঁইয়া। এতে যাতায়াত করতে পারছেন না তারা। আধা কিলোমিটার ঘুরে তাদের মূল সড়কে আসতে হয়।
আওয়াল ভূঁইয়ার প্রতিবেশী শাজাহান বিশ্বাস জানান, তিনি হাসনাবাদ হাউজিংয়ে প্লট কেনার পর আউয়াল ভূঁইয়া তাকে হয়রানি করে আসছেন। রাস্তাটি ২০১৩ সালেও একবার বন্ধ করেছিল। তখন তিনি ঢাকা চতুর্থ যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তৎকালীন কেরানীগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও জজ কোর্টের সার্ভে কমিশনার যৌথভাবে তদন্ত করে সরেজমিন স্ক্যাচম্যাপে বাদী ও বিবাদীর অবস্থান চিহ্নিত করে রাস্তাটি অবমুক্ত করে দেন।
হাসনাবাদ হাউজিংয়ের দায়িত্বে থাকা সর্দার ডেভেলপমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান আলহাজ নুরে আলম জিতু সরদার জানান, নাজিম চেয়ারম্যান হাসনাবাদ হাউজিংয়ের প্লট বিক্রির সময় প্রতি দুটি প্লট পরপর ১২ ফিটের একটি রাস্তা রেখেছেন। রাস্তাটি নৌ কনটেইনার রোডে মিলিত হয়েছে, যা পেছনের প্লটের লোকজন ও গ্রামবাসীদের ব্যবহারের রাস্তা । রাস্তাটি অবৈধভাবে বিএনপি নেতা আউয়াল ভূঁইয়া দখল করে টিনের বেড়া দিয়ে সড়কে বাঁশ ফেলে রেখেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আউয়াল ভূঁইয়ার জানান, যে জায়গাটি তিনি লোহার গেট ও বেড়া দিয়ে বন্ধ করে রেখেছেন সেটি তার নিজের জমি। তার নামের অনুকূলে জমির দলিল, নামজারি ও খাজনা পরিশোধ করা আছে। পেছনের প্লট মালিকদের যাতায়াতের জন্য উত্তর-পশ্চিম দিকে আরেকটি রাস্তা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।