কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর এলাকায় শতবর্ষী শামসুদ্দিনের মৃত্যুর পর তাকে ঢোল-বাঁশির তালে শেষ বিদায় দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের আপত্তির মুখে জানাজার নামাজের আগে প্রকাশ্যে সবার কাছে ক্ষমা চান মরহুমের ছোট ছেলে খাইরুল ইসলাম। পরে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে লাশ দাফন করা হয়।
রোববার দুপুরে কটিয়াদী পৌরসভার পূর্ব কাহেতেরটেকী মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শামসুদ্দিনের মৃত্যুর পর বাড়িতে শোকের পরিবেশের পরিবর্তে ঢাকঢোল বাজিয়ে নৃত্যের আয়োজন একই সময়ে লাশ গোসলের কার্যক্রম চলছিল। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, মরহুম শামসুদ্দিন ও তাঁর পরিবার নেত্রকোনার প্রয়াত পীর গাজী আকবর আলায়ী রিজভীর অনুসারী ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, জীবদ্দশায় শামসুদ্দিন মৃত্যুর পর ঢাকঢোল বাজিয়ে বিদায় দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সেই ইচ্ছা পূরণের উদ্দেশ্যেই তারা এমন আয়োজন করেছিলেন।
লাশ দাফনের জন্য নেওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি ঢোল-বাঁশি বাজিয়ে ও নৃত্য পরিবেশন করে শোভাযাত্রার আয়োজন করেন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে এটিকে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন। পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জানাজার নামাজে অংশগ্রহণ নিয়েও অনীহা প্রকাশ করেন অনেকেই।
খবর পেয়ে স্থানীয় আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাদের হস্তক্ষেপে খাইরুল ইসলাম প্রকাশ্যে নিজের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে আলেমদের উপস্থিতিতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং মরদেহ দাফন করা হয়।
স্থানীয় ইমাম মাওলানা তোফাজ্জল হক রাশেদীন বলেন, মৃত্যু মানুষের জীবনের চূড়ান্ত সত্য। ইসলাম মৃত্যুর সময় ধৈর্য ধারণ, দোয়া করা এবং মরহুমের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার শিক্ষা দেয়। এ ঘটনায় মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছিল। পরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি সবার সচেতন থাকা প্রয়োজন।
মরহুমের ছেলে খাইরুল ইসলাম বলেন, আমার এ কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। বাবা জীবদ্দশায় বলেছিলেন, তার মৃত্যুর পর যেন অতিরিক্ত শোক প্রকাশ না করা হয় এবং তাকে আনন্দের সঙ্গে বিদায় দেওয়া হয়। আমি তার সেই ইচ্ছা পূরণের চেষ্টা করেছি মাত্র। তবে এতে অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন। আমার আচরণে কারো অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা-প্রার্থী।
কটিয়াদী মডেল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, লোকমুখে ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের জানায়নি। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।