দেদার মাটি বিক্রি করছেন ঠিকাদার
সাভারের আশুলিয়ায় আদালতে মামলা চলমান নালিশি খতিয়ানের ভরাট পুকুর খনন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, ঠিকাদার পুকুরপাড় ভরাট না করে ভেকুর (মাটি কাটার যন্ত্র) সাহায্যে মাটি কেটে নিয়মবহির্ভূতভাবে ইটভাটায় দেদার বিক্রি করছেন।
এদিকে পুকুরসংলগ্ন নির্মিত ইট সলিং সড়কের প্রায় অর্ধকিলোমিটার সড়ক মাটিভর্তি ভারী ট্রাক চলাচল করায় ভেঙে গেছে। খনন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির নামে অবৈধ উপায়ে কোটি টাকা মূল্যের মাটি বিক্রির ঘটনায় এলাকাবাসী ফুঁসে উঠেছে। তারা শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে।
মাটির ভারী ট্রাক চলাচল করায় ইটের তৈরি সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ইতোমধ্যে একাধিক ব্যক্তি আশুলিয়া থানায় অভিযোগ করেছেন, যা সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইয়ারপুর ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামের বাসিন্দা সিরাজ সরকার সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিতভাবে জানান, তার পিতা হাবিব উল্লাহ সরকার ও অন্যরা মিলে প্রায় ৮১ শতাংশ জমি সিএস রেকর্ডীয় মালিকের কাছ থেকে কেনেন।
পরে তা সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি হিসেবে রেকর্ড হয়। কিন্তু কেনার পর থেকে তার পিতা হাবিব উল্লাহ ও অন্যরা ভোগদখলে আছেন। এ সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা ঢাকার আদালতে চলমান, কিন্তু এ সম্পত্তি ঢাকা জেলার এডিসি (রেভিনিউ) সংস্কার ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ৯৫ লাখ ২১ হাজার ৮৫০ টাকায় ঠিকাদার নিযুক্ত করেন।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, ঠিকাদার মাদারীপুরের শরীয়ত উল্লাহ ট্রেডার্স ভেকুর সাহায্যে মাটি কাটছে। পাশেই অবস্থান করছেন দোসাইদ গ্রামের বিএনপি নেতা পরিচয়ে আজম, তাজপুর গ্রামের বাসিন্দা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবদুর রশিদ তারাসহ বেশকিছু লোকজন। তারা জানান, মূল ঠিকাদার মিজানুর রহমান। দেখভালের দায়িত্ব পেয়েছেন তারা।
ট্রাকচালক রবিউল জানান, তারা এ মাটি ধামরাইয়ের বাথুলি এলাকায় রনি ব্রিক ফিল্ডে নিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে ঠিকাদার মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।
মাটির ট্রাক চলাচলে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় আশুলিয়া থানায় জিডি করেছেন তাজপুর গ্রামের আফসার উদ্দিন সরকারের ছেলে হেলাল উদ্দিন সরকার। অভিযোগে তিনি জানান, মাটিভর্তি ট্রাক চালিয়ে সড়কের প্রায় ২৫-৩০ লাখ টাকা ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।
আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন এসআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, কোনো মসজিদ-মাদরাসা মাটি নিতে আগ্রহী না হওয়ায় খনন ও সংস্কারকাজে নিযুক্ত ঠিকাদার ট্রেজারি চালানে টাকা জমা দিয়ে হয়তো কিছু মাটি বিক্রি করেছেন।