শরীয়তপুরের নড়িয়ায় একটি সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি নড়িয়া উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের অফিস সহকারী মো. তৌফিকুল ইসলামকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ওঠে মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বুধবার নড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির তথ্য, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য নিয়ে দৈনিক কালবেলার অনলাইন সংস্করণে সংবাদ প্রকাশ করেন পত্রিকাটির শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি খান মোহাম্মদ শিহান।
অভিযোগ রয়েছে, সংবাদটি প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ হয়ে খান মোহাম্মদ শিহানের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিক বার্তা পাঠান মতিউর রহমান সাগর। বার্তায় তিনি লেখেন, আপনি কি সাংবাদিক, না সাংঘাতিক? আমার বক্তব্য ছাড়া নিউজ করলেন কিভাবে? ওসির দালালি করেন না। ঠিক আছে, আমি অপু ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। ওই বার্তায় সাংবাদিকের চাকরির বিষয়ে প্রভাব খাটানোরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মতিউর রহমান সাগর অভিযোগ অস্বীকার না করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, পাড়লে আপনারা কিছু করেন। আমার এক মাসের আয় আপনাদের এই সাংবাদিকদের পেছনে খরচ করে হলেও দেখে নেব। বাঘে ধরলে ছাড়ে, কিন্তু আমি ধরলে ছাড়ি না। যারা আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব।
খান মোহাম্মদ শিহান বলেন, আমি পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নিয়েই সংবাদ প্রকাশ করেছি। এরপরও এ ধরনের হুমকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি নিয়ে আমি প্রেসক্লাব ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করছি। প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও আরটিভির প্রতিনিধি আবুল হোসেন সরদার বলেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপদে দায়িত্ব পালনের পরিবেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়। সাংবাদিকরা কোনো হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবেন না; সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকেই পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন।
জেডএম