২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে ইনু মিয়া ঐদিন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ও তার পছন্দের দল বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলে তবেই তিনি ভাত খাবেন।
তার পছন্দের দল বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসায় অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাত খাওয়া শুরু করেন জগৎচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত সুলায়মান মিয়ার ছেলে ইনু মিয়া। শুধু কলা, রুটি, বিস্কুটসহ শুকনা খাবার খেয়েই কাটিয়েছেন ১৭ বছরেরও বেশি সময়।
মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখ ১৪ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম ইনু মিয়ার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার রামদী ইউনিয়নের পশ্চিম জগৎচর গ্রামে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ হাতে তাকে ভাত খাওয়ায়ে দেন। নিজ দলের প্রিয় নেতার হাতে প্লেটে ভাত তুলে দেওয়ার পর থেকে হাসি মুখে ভাত খাওয়া শুরু করেন ইনু মিয়া।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ১২ জানুয়ারি সোমবার উপজেলার রামদী ইউনিয়নের জগৎচর পশ্চিমপাড়ায় স্থানীয় বিএনপির এক কর্মীসভায় নেতাকর্মীরা ভাত-তরকারি এনে ইনু মিয়াকে খেতে অনুরোধ করেন। তবে তা প্রত্যাখ্যান করে বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার আমলে নির্যাতিত বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী ইনু মিয়া বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তবে তিনি ভাত খাবেন। ঐদিন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এমপি ইনু মিয়াকে কথা দিয়েছিলেন, বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে ইনু মিয়াকে নিজ হাতে ভাত খাওয়াবেন। তার দেওয়া কথা রাখতে নির্বাচনের পর আজ ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ইনু মিয়ার প্লেটে ভাত তুলে দিয়ে ভাত খাওয়ানো শুরু করান।
বিএনপির অন্ধভক্ত ইনু মিয়াকে ভাত খাওয়ানোর পর প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, ‘যে ব্যক্তি দলকে ভালোবেসে এত বড় ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন আমাদের উচিত তার পাশে থাকা। ভাত না খেয়ে বয়োবৃদ্ধ ইনু মিয়া প্রতীকী প্রতিবাদ করে গেছেন। আমরা দলীয় নেতাকর্মীরা তার যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকব ইনশাল্লাহ।’
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন অচিরেই ইনু মিয়াকে একটি নতুন ঘর করে দিবেন এবং একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিবেন।
এসময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি এডভোকেট মশিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কিতাব আলী, সাধারণ সম্পাদক এমএ হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শাহ্ আলমসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীবৃন্দ।
ইনু মিয়াকে ভাত খাওয়ানোর আগে ইনু মিয়া প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। প্রতিমন্ত্রীও ইনু মিয়াকে ফুলের মালা পড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান।