মৌসুমের শুরুতেই সোনারগাঁয়ের রসালো লিচু বাজারে আসতে শুরু করেছে। গাছে গাছে ঝুলে থাকা লালচে ফল লিচু, চারপাশজুড়ে কৃষকদের ব্যস্ততা এবং পাইকারদের ভিড়ে পুরো এলাকা এখন মৌসুমি উৎসবে পরিণত হয়েছে।
এবার অতিমাত্রায় খরার কারণে লিচুর উৎপাদন তেমন ভালো না হওয়ায় বাগানিদের লোকসানও গুনতে হতে পারে বলে জানা গেছে। প্রয়োজনীয় সময়ে বৃষ্টি না হওয়ায় এ বছর বহু লিচুর ফুল ও কড়া লিচু ঝরে পড়ে গেছে। লিচুর আকার ছোট হয়ে যাওয়ার ফলে গাছে লিচু টিকিয়ে রাখতে বাগানে সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় এবং এ কারণে কৃষকের খরচও পড়ে যায় বেশি।
সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক জানান, সোনারগাঁয়ে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৭২টি লিচু বাগান রয়েছে। এ বছর ১১৫ হেক্টর জমিতে লিচু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তবে চাষ হয়েছে ১১০ হেক্টর জমিতে। আশা করা হচ্ছে, টাকার হিসাবে এ বছর প্রায় ৫ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হবে। কারণ এবার আগাম ফলন হওয়ায় লিচুর দামও অনেক বেশি।
আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্যের কারণে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সোনারগাঁয়ের লিচু মৌসুমের শুরুতেই বাজারে আসে। সে কারণে গ্রাহকের কাছে এই লিচুর চাহিদা থাকে বেশি। স্থানীয় মতে, ১৭০০ সাল নাগাদ পর্তুগিজদের মাধ্যমে সোনারগাঁয়ে প্রথম লিচু চাষের সূচনা হয়। পর্তুগিজ বণিকদের হাত ধরে আনা এই ফল প্রথমে সীমিত পরিসরে চাষ হলেও ধীরে ধীরে তা বিস্তৃতি পায়। সময়ের পরিক্রমায় এখন এটি পুরো অঞ্চলের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত। সোনারগাঁয়ে প্রধানত পাতি, কদমি ও বোম্বাই (চায়না-৩) জাতের লিচুর চাষ হয়ে থাকে। মৌসুমের শুরুতে পাতি লিচু বাজারে আসে।
এরপর বাজারে আসে কদমি ও বোম্বাই লিচু। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালে রয়েছে চাষিদের কঠোর পরিশ্রম। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোনারগাঁয়ের প্রায় ৮৫টি গ্রাম লিচু চাষের জন্য পরিচিত। গোয়ালদী, হরিষপুর, দুলালপুর, পানাম, গাবতলী, খাসনগর, দিঘিরপাড়, চিলারবাগ, ইছাপাড়া, দত্তপাড়া, কৃষ্ণপুরা, হাতকোপা, অজুন্দীসহ বিভিন্ন এলাকায় সবচেয়ে বেশি লিচুবাগান রয়েছে। এসব এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের বাগানে লিচু চাষ হয়। রাইজদিয়া গ্রামের লিচুবাগান মালিক ইকবাল জানান, বর্তমানে এলাকায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ বৃষ্টির কারণে লিচুর কিছুটা ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।