কুলিয়ারচর-ভৈরব সহ কিশোরগঞ্জ জেলার অবকাঠামো, শিক্ষা, ক্রীড়া ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়নে একাধিক বড় প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলম এমপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে ডিও লেটার পাঠিয়ে এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী নরুল ইশরাক তার ফেসবুক আইডি থেকে সাতটি উন্নয়নমূলক কাজের অফিসিয়াল ডকুমেন্ট-সংবলিত একটি পোস্ট প্রকাশ হলে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনায় আসে।
প্রকাশিত ডকুমেন্টগুলোতে দেখা যায়, সাতটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কুলিয়ারচর ও ভৈরব পৌর এলাকার সড়ক সংস্কার, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ। ভৈরব ও কুলিয়ারচর পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই দুই এলাকায় সড়ক উন্নয়ন স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভৈরব পৌরসভার জন্য একটি আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাবও গুরুত্ব পেয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যার সমাধান এবং পরিবেশ দূষণ হ্রাস পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস স্থানান্তর এবং বিভিন্ন নাগরিক সুবিধার সম্প্রসারণ। এবং দেশের সর্ববৃহৎ কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের আধুনিকায়ন। শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠকে ঘিরে পরিকল্পনায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর, ওয়াশরুম সম্প্রসারণসহ যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। প্রতি বছর ঈদ জামাতে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতি বিবেচনায় এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে হাওরাঞ্চলসহ বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষি, মৎস্য, শিল্প ও যোগাযোগ খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কিশোরগঞ্জে একটি আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখানে স্টেডিয়াম, ইনডোর গেমস কমপ্লেক্স, সুইমিংপুল ও প্রশিক্ষণ সুবিধা থাকবে।
সচেতন মহলের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভৈরব-কুলিয়ারচরসহ কিশোরগঞ্জ জেলার সার্বিক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।