স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আগামী ৩ মে থেকে সকল জেলা উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি একযোগে চলবে। সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের জিন্দাপার্কের লিটল এনজেলস সেমিনারি স্কুল মাঠে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি সকলকে শিশুদের স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রাখার অনুরোধ করেন। হামে আক্রান্ত হয়ে কোন শিশু যেন মৃত্যুর কোলে ঢলে না পড়ে। অসময়ে যেন কোন মায়ের বুক খালি না হয়। হামে আক্রান্ত হলে রোগীকে নিকটতম হাসপাতালে পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের ব্যর্থতার কারণে দেশ অনেকটা পিছিয়ে আছে। অতীত সরকারগুলোর ব্যর্থতায় সারাদেশে হামের ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিগত সরকার সরকারি কোষাগারে কোন টাকা রেখে যায়নি। আমরা বিচলিত হয়ে পড়েছিলাম। কিন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিচক্ষণতায় ও তাঁর নির্দেশনায় আমরা হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করেছি।
মন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের বাচ্চাদের পুষ্টির অভাব। শুধু ওষুধ দিয়ে মানুষকে ভালো করা যাবে না। আমাদের নিজেদেরও সচেতন হতে হবে। সবচাইতে বেশি কার্যকরী ওষুধ মায়ের দুধ। মায়ের দুধ পান করলে বাচ্চার বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। অনেক মায়েরা বিভিন্ন কারণে বাচ্চাকে বেস্ট ফিডিং থেকে বিরত থাকেন। বাচ্চাদের বেস্ট ফিডিংয়ের জন্য মায়েদের প্রতি তিনি আহবান জানান।
টিকা প্রদানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব কমিশন মিস মেগান বলডিন, ইউনিসেফ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেনটিভ এমএস এম্মানিউলি এবরিউক্স, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেনটিভ ডা. রাজেশ নরওয়ে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আইভি ফেরদৌস, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন প্রমুখ।
এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া বাকি দিনগুলোতে সকাল ৮টা থেকে সব স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে এই টিকা দেওয়া হবে। ১৮ জেলার ৩০ উপজেলা ও ৪ সিটি করপোরেশনসহ সব এলাকা মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এই কার্যক্রমের আওতায় টিকা দেওয়া হবে।
গত ৫ এপ্রিল প্রথম ধাপে শুরু হওয়া কর্মসূচি আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত এবং ১২ এপ্রিল শুরু হওয়া কর্মসূচি ১২ মে পর্যন্ত চলবে। দেশব্যাপী এই বিশেষ ক্যাম্পেইন সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০ মে পর্যন্ত এবং দেশের অন্যান্য স্থানে ১২ মে পর্যন্ত চলবে। হামে আক্রান্তদের ছাড়া সকল শিশুকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল দেওয়া হবে। এদিকে যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ তাদের এই সময়ে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এডি/জেডএম