দেশের আমদানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে মোংলা বন্দর। বিশেষ করে রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বন্দরের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানির মাধ্যমে মোংলা বন্দরে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়। এরপর গত ১৭ বছরে এই খাত থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে দেশে আমদানিকৃত মোট গাড়ির প্রায় ৬০ শতাংশই মোংলা বন্দর দিয়ে খালাস হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতি মাসে গড়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ ইউনিট রিকন্ডিশন গাড়ি মোংলা বন্দরে আমদানি হচ্ছে। এসব গাড়ি সংরক্ষণের জন্য বন্দরে দুটি আধুনিক ইয়ার্ড রয়েছে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ২০ হাজার ইউনিট গাড়ি রাখা সম্ভব।
গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি কামরুল হাসান বলেন, মোংলা বন্দরে গাড়ি সংরক্ষণের জন্য উন্নতমানের অবকাঠামো ও পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। এছাড়া পদ্মা সেতুর মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হওয়ায় ব্যবসায়ীদের আস্থা বেড়েছে। ফলে অনেক আমদানিকারক এখন চট্টগ্রাম বন্দরের পরিবর্তে মোংলা বন্দরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছেন।
মোংলা বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) মো. কামাল হোসেন জানান, গাড়ি আমদানিকারকদের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করছে। সেবার মান আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, বন্দরের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. মাকরুজ্জামান বলেন, বন্দরের মোট রাজস্ব আয়ের একটি বড় অংশ আসে রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানির মাধ্যমে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোংলা বন্দরের মাধ্যমে ১১ হাজার ৫৭৯টি গাড়ি আমদানি করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই ৮ হাজার ৭৭০টি গাড়ি আমদানি হয়েছে, যা এ খাতের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সেবার মান বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে মোংলা বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।