যশোরে বোমা বিস্ফোরণে আহত দুই ভাই বোনের মধ্যে খাদিজা (৪) মারা গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্যে ঢাকায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিশুটির সৎবাবা শাহাদত গাজী। আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় মোবাইল ফোনে মেয়ে খাদিজার মৃত্যুর বিষয়টি জানান তিনি।
শাহাদত বলেন, 'ডাক্তারদের নির্দেশনা মতো উন্নত চিকিৎসার জন্যে খাদিজাকে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলাম। পথে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে খাদিজা মারা যায়। এখন তার লাশ নিয়ে ফিরে আসছি।'
যশোর জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, 'আমরা শুনেছি শিশুটি মারা গেছে। কিন্তু নিশ্চিত না হয়ে বলতে পারছি না।'
আজ সকালে যশোরে ঘরের ভেতরে বোমা বিস্ফোরণে দুই শিশু খাদিজা (৪) ও সজীব (৭) আহত হয়। এদের মধ্যে খাদিজার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
সকাল ৮টার দিকে যশোর শহরের শঙ্করপুর গোলপাতা মসজিদের পাশে প্রয়াত বিএনপি নেতা নূর-উন-নবীর বস্তিতে এ ঘটনা ঘটে।
বোমায় হতাহত দুই শিশুর বাবার নাম শহিদুল গাজী ও মায়ের নাম সুমি বেগম। শহিদুল আত্মহত্যা করলে ছোট ভাই শাহাদত গাজী তার স্ত্রীকে বিয়ে করেন।
হতাহতদের দাদি মনোয়ারা বেগম জানান, সকালে উঠানে বসে তিনি ও তার ছেলের স্ত্রী খাবার খাচ্ছিলেন। ওই সময় ঘরের ভেতর হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তাকিয়ে দেখেন ধোঁয়া বের হচ্ছে। এরপর ঘরে গিয়ে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় তার পোতা-পুতনি পড়ে আছে।
এরপর তারা শিশু দুটিকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার শাকিরুল ইসলাম বলেন, বোমায় খাদিজার হাত, বুক এবং সজীবের বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগেছে। তাদের শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, শিশুরা যে কক্ষে থাকে, তার পাশেই থাকে সন্ত্রাসী মুসা ওরফে সাগরের মা। মুসা শাহাদতের ঘরে বসে বোমা তৈরি করে। সম্ভবত তার তৈরি করা বোমা বিস্ফোরণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিকে, বোমা বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান। তিনি বলেন, বিস্ফোরিত বোমার ধরন বোঝা যাচ্ছে না। ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর বোমা বিশেষজ্ঞ টিমকে ডাকা হয়েছে। বোমার ধরন জেনে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।