আদালতের নির্দেশে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৪ জন ইউপি চেয়ারম্যানকে পুনর্বহাল করা হয়েছে। ওই ৪টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে চেয়ারম্যানদের স্বপদে পুনর্বহাল করা হয়। হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনার আলোকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।
দাপ্তরিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে বিষয়টি জানানো হয়। পুনর্বহাল হওয়া চেয়ারম্যানরা হলেন চিৎলা ইউনিয়ন পরিষদের হাসানুজ্জামান সরোয়ার, খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার, ডাউকি ইউনিয়ন পরিষদের তরিকুল ইসলাম এবং খাসকররা ইউনিয়ন পরিষদের তাফসির আহম্মেদ মল্লিক লাল।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ এবং বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বে জারি করা প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতির কারণে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম সচল রাখতে ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক আদেশে ৪টি ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়। সে অনুযায়ী আলমডাঙ্গা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এবং আইসিটি কর্মকর্তাকে যথাক্রমে ডাউকি, খাদিমপুর, চিৎলা ও খাসকররা ইউনিয়নে পূর্ণ আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
পরে এ আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ চেয়ারম্যানরা হাইকোর্ট বিভাগে পৃথক রিট পিটিশন দায়ের করেন। শুনানি শেষে ২০২৬ সালের ১২ মার্চ আদালত ওই আদেশের কার্যকারিতা ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেন এবং চেয়ারম্যানদের স্বপদে বহাল রেখে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেন।
পুনর্বহালের পর চেয়ারম্যানরা বলেন, আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা দায়িত্ব পালন করবেন এবং জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকবেন।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, আদালতের নির্দেশনা এবং বিভাগীয় কমিশনারের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চেয়ারম্যানদের পুনর্বহালের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।