হোম > সারা দেশ > ময়মনসিংহ

জামালপুরে চামড়ার বাজারে এবারো সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

জেলা প্রতিনিধি, জামালপুর

জামালপুরে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে এবারো সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ উঠেছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, সরকার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অর্ধেকেরও কম দামে চামড়া কিনছেন। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বঞ্চিত হচ্ছে মাদরাসা ও এতিমখানা।

জানা গেছে, সরকার এবার জেলা পর্যায়ে প্রতি বর্গফুট হিসেবে গরুর চামড়া ৬০ টাকা, খাসির চামড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা, বকরির চামড়া ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। সে হিসাবে মাঝারি গরুর চামড়ার মূল্য হওয়ার কথা ৯৫০ থেকে ১২০০ টাকা এবং বড় গরুর চামড়া ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত।

কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, ঈদের দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বড় গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে সেই একই চামড়া বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়, কোথাও কোথাও মাত্র ১০০ টাকায়ও। মাঝারি গরুর চামড়ার দামও নেমে আসে ১০০ থেকে ২০০ টাকায়।

চামড়া বিক্রেতাদের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকারি রেট কার্যকরে প্রশাসনের কোনো তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করছেন। গুদামের সামনে সরকারি মূল্যতালিকা টানানো না থাকায় সাধারণ মানুষ প্রকৃত দাম সম্পর্কেও অজ্ঞ থাকছেন। তবে চামড়া ব্যবসায়ীদের দাবি ভিন্ন।

অভিযোগ রয়েছে, পরিকল্পিতভাবে দরপতন ঘটিয়ে এবারের কোরবানির চামড়ার বাজার ধসিয়ে দিয়েছে একটি সিন্ডিকেট চক্র। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ মানুষ ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ছাগলের চামড়ার বাজারে প্রায় কোনো দামই মিলছে না।

শহরের দেওয়ানপাড়া এলাকার বাসিন্দা মঞ্জু মিয়া বলেন, ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছি। শুনলাম সরকার চামড়ার দাম বাড়িয়ে প্রতি বর্গফুট ৬০ টাকা করেছে। সেই হিসাবে আমার চামড়ার দাম দুই হাজার টাকার বেশি হওয়ার কথা। অথচ বিক্রি করতে হলো মাত্র ৫০০ টাকায়।

চামড়া গুদামের মালিক বিল্লাল হোসেন বলেন, সরকারি রেটে ট্যানারিগুলো চামড়া কিনতে চায় না। তারা বলে, সরকারের কাছে বিক্রি করেন। আবার লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে চামড়া কিনে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করতে হয়। পরে টাকা পেতেও মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়। তাই সরকারি রেটে চামড়া কেনা সম্ভব হয় না।

সদর উপজেলার ইউএনও নাজনিন আখতার বলেন, সরকারি রেটের চেয়ে কম দামে চামড়া কেনার অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুর বিসিক শিল্পনগরীর উপ-মহাব্যবস্থাপক সম্রাট আকবর বলেন, চামড়া ব্যবসায়ীদের আমরা বলেছি, অতিরিক্ত কম দামে চামড়া কিনলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হবে। ট্যানারিগুলো সরকারি রেটে চামড়া কিনছে না—এ অভিযোগও সঠিক নয়। লবণযুক্ত করে সংরক্ষণ করে আনলে সরকারি রেটে বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে।

জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, সরকার নির্ধারিত রেট মানা না হলে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চামড়ার দরপতন হলে খুচরা ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হবে। চামড়া শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকার মূল্য বৃদ্ধি করেছে। এ খাতকে এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

জেডএম

জামালপুরে বিনোদন কেন্দ্রগুলোয় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

কোনো ধরনের দুর্নীতি আমাকে স্পর্শ করবে না: ডেপুটি স্পিকার

পাঁচদিন ধরে বিদ্যুৎহীন মাদারগঞ্জের ২৫০ পরিবার

স্বজনের জানাজায় যাওয়ার পথে নিজেই ফিরলেন লাশ হয়ে

নদীতে মাছ ধরার সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় জেলে নিহত

হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ‎‎

৩৬ ঘণ্টারও বেশি বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তি

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত

আ. লীগের পরিত্যক্ত অফিসে হেরোইনসহ তরুণী আটক

সাঁতার শিখতে গিয়ে পানিতে ডুবে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু