ময়মনসিংহ নগরীতে এক সংঘর্ষের ঘটনায় রানা মিয়া (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মহানগর জামায়াতের এক নেতার ছেলের ছুরিকাঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গুরুতর আহত অবস্থায় রানাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রানা মিয়া স্থানীয় বাসিন্দা এবং পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। স্বজনদের দাবি, তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের সময় বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার পর থেকেই তাদের সঙ্গে স্থানীয় জামায়াত নেতা মফিদুল ইসলামের পরিবারের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সেই বিরোধের ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক ঘটনাটির সূত্রপাত বলে তারা মনে করছেন।
স্বজনদের দাবি, সোমবার ফুটবল খেলা শেষে কয়েকজন তরুণ একটি দোকানে গেলে সেখানে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। পরে রাতের দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।
তাদের অভিযোগ, পরদিন বিকেলে মফিদুল ইসলামের ছেলে মাহিনের নেতৃত্বে একদল লোক এলাকায় এসে হামলা চালায়। এ সময় রানা মিয়া ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
নিহতের বড় ভাই তোফাজ্জল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই তার ভাইকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
অন্যদিকে, মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি বা তার ছেলে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না এবং তাদের নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসান বলেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক বিরোধের কারণে নয়; স্থানীয় গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জের ধরে এ সংঘর্ষ হয়েছে বলে তারা জেনেছেন।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাথমিক তদন্তে বিরোধের পেছনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে এসেছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এআরবি