নেত্রকোনার কেন্দুয়া-আটপাড়া হাওরাঞ্চলে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত অল্প সময়ের মধ্যেই টানা বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে। অনেকেই কোমর সমান পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করেছেন কিন্তু প্রকৃতির সঙ্গে এই অসম লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেননি অধিকাংশই। বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের এমপি ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী ফেসবুক পোস্টে জানান, ‘পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মুখ্য সচিব তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তিন মাসের পুনর্বাসন ও সহায়তা পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
তবে মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে। স্থানীয় কৃষকদের কণ্ঠে ক্ষোভ ও হতাশা স্পষ্ট। তাদের ভাষায়, ‘মানুষের স্বপ্ন পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রতি বছরই একই ক্ষতির মুখে পড়ি। শুধু সহায়তা নয়, স্থায়ী সমাধান চাই।’
কৃষকদের অভিযোগ, যে অল্প কিছু ধান রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে, সেটিও বাজারে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে লোকসানের বোঝা আরো বাড়ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে কেন্দুয়া উপজেলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ১০০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া ৩৭৫ হেক্টর বোরো ধান, ৫.৫ হেক্টর সবজি, ৫.৭ হেক্টর পাট এবং ০.৪৫ হেক্টর আমন বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল সাহা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। পরবর্তীতে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া নেওয়া হবে। হাওরপাড়ের বাস্তবতা আজ নির্মম মাঠে পানি, চোখে পানি। কৃষকের ঘাম, শ্রম আর স্বপ্ন একসঙ্গে তলিয়ে যাচ্ছে।
জেডএম