জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শহীদদের রেখে যাওয়া কাজ আমরা করব। মহান আল্লাহ যদি আমাদের সুযোগ দেন, সর্বস্তরের দুর্নীতিকে আমরা মাটির নিচে গেড়ে দেব। পরিচ্ছন্ন হাতের ছোঁয়ায় দেশ গড়ে উঠবে। আল্লাহর কসম, জনগণের একটা টাকার ওপরেও আমরা হাত বসাব না। চাঁদাবাজদের অস্তিত্ব বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ওপর সহ্য করা হবে না। চাঁদা, দুর্নীতি, মামলা জামায়াত করেনি। ভবিষ্যতেও করবে। এসবের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপত্তা, নিরাপদ সমাজ গঠনের দায়িত্ব সরকারের।
শনিবার দুপুর পৌনে ১টায় শহরের আলতাফুনন্নেছা খেলার মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনি সভায় তিনি এ কথা বলেন।
জেলা জামায়াতের আমির সভাপতি আব্দুল হকের সভাপতিত্বে আমির আরো বলেন, বগুড়া উত্তরবঙ্গের রাজধানী। শহরের সাতমাথা সমগ্র উত্তরবঙ্গকে একীভূত করেছে। আল্লাহ যদি আমাদের দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন, তাহলে আমরা ঐতিহ্যবাহী বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় করব।
তিনি আরো বলেন, জামায়াতের পক্ষে বিজয় আসবে ইনশাল্লাহ। দাঁড়িপাল্লা ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক। আপনারা দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করবেন।
এ সময় তিনি দাঁড়িপাল্লার পক্ষে বগুড়ার সাতটি আসনে জামায়াত প্রার্থী বগুড়া- ১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে মো. শাহাবুদ্দিন, বগুড়া- ২ (শিবগঞ্জ) আসনে আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান, বগুড়া- ৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে নূর মোহাম্মদ, বগুড়া- ৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে মো. মোস্তফা ফয়সাল, বগুড়া- ৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে দবিবুর রহমান, বগুড়া- ৬ (সদর) আসনে মো. আবিদুর রহমান এবং বগুড়া- ৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে গোলাম রব্বানীদের পরিচয় করে দেন। সেই সাথে তিনি প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক হাতে তুলে দেন।
জনসভাকে ঘিরে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষদের ভিড়ে অনুষ্ঠানস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়। সকাল ১০টার পর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য শুরু করেন। প্রধান অতিথির ১২ মিনিটের বক্তব্যে পরে জোহরের নামাজের আগেই এই জনসভাটি শেষ হয়।
জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং মাওলানা আব্দুল হালিম, এছাড়াও জাগপার সভাপতি রাশেদ প্রধানসহ স্থানীয় ১০ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ ও জামায়াতের অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বগুড়া জনসভার আগে সকাল সাড়ে ১১টায় জেলার মোকামতলায় একটি পথসভা করেন। এরপর তিনি বগুড়ার জননভা শেষ করে দুপুর ২টায় শেরপুর উপজেলায় আরেকটি জনসভায় অংশ নেন। পরে সিরাজগঞ্জ শহরে ও উল্লাপাড়ায় জনসভা করে সন্ধ্যায় তিনি পাবনায় পৌঁছেন।