সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় চাঁদাবাজি, অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় স্বপন ও রাকিব নামে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার ভোররাতে উপজেলার ধানগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ধানগড়া পৌর এলাকার মৃত আব্দুস সালামের ছেলে ও যুবদল নেতা মো. তৌকির আহম্মেদ স্বপন (৩৯) এবং রনতিথা গ্রামের মো. আমাউল্লাহর ছেলে মো. রাকিব।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বালু ব্যবসায়ী মাহবুবুল আলম শেখের কাছে দীর্ঘদিন ধরে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন অভিযুক্তরা। গত ২ মে সকালে মাহবুবুল আলম এক লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ধানগড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা তার পথরোধ করে। এ সময় তাকে মারধর, শ্বাসরোধের চেষ্টা এবং সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এরপর তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালায়। একই সঙ্গে পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে বিষয়টি পুলিশে জানানো হয়েছে টের পেয়ে বিকেলের দিকে ভুক্তভোগীকে ছেড়ে দেয় তারা। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি স্থানীয় ক্লিনিকে এবং পরে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মানিক উদ্দিন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান বলেন, বুধবার দুপুরে আটক দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রধান আসামি তৌকির আহম্মেদ স্বপনের বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি, বিস্ফোরক দ্রব্য ও মানুষকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। তবে তার গ্রেপ্তারের খবরে এখন এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।