ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাবনা-৩ আসনের (ভাঙ্গুড়া,ফরিদা ও চাটমোহর) জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় ঐক্যজোট সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা আলী আছগার তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
সোমবার বিকেলে সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত জনসমাবেশে ১৬ দফা এই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আলী আছগার নিজেই তার ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ঘোষিত ইশতিহার হলো-
১. ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ২৪ এর বিপ্লব বুকে ধারণ করা হবে।
২. শিক্ষার মান উন্নয়নে কৃষি ইন্সটিটিউট ও ফিশারিজ কলেজ স্থাপন, কলেজে অনার্স এর বিষয় ও সংখ্যা বাড়ানো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও গুণগত উন্নয়ন, মাদ্রাসা শিক্ষার বৈষম্য দূরীকরণ, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, বিভিন্ন গবেষণা ও ভাষা ইন্সটিটিউট স্থাপন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়ন করা হবে।
৩. স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নতকরণ ,পর্যাপ্ত ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসা সামগ্রী ব্যবস্থা করা হবে,পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে সকলের নিকট স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
৪. পৌরসভাগুলোকে প্রকৃতপক্ষে আধুনিকায়ন করে প্রথম শ্রেণীর নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।
৫. যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামগত উন্নয়ন করা হবে। একই সাথে আসনের সমস্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্রিজ, কালভার্ট ও সড়ক নির্মাণ করা হবে । গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্ত করণ করা হবে।
৬. যুবক ও বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হবে। কুটির শিল্প, হস্তশিল্প, খাদ্য দ্রব্য উৎপাদনে ঋণ ও উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে। এআই, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, ফ্রিল্যান্সিং হাব, আউটসোর্সিং ও ডিজিটাল কনটেন্ট এর প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ করা হবে।
৭. কৃষি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সুদ মুক্ত কৃষি ঋণ সহ সকল ধরনের সামগ্রী ন্যায্য মূল্যে সহজে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে খাল খনন ও পানি নিষ্কাশন সহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিভিন্ন বিলের উন্নয়ন করা হবে। কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হবে।
৮. পরিবেশ সংরক্ষণ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করা হবে।
৯. আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। সংখ্যালঘু ও সুবিধা-বঞ্চিতদের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
১০. নারী ও শিশু কল্যাণে নানা ধরনের গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন নিপীড়ন সহিংসতা রোধে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
১১. যুব-সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সংস্কৃতির বিকাশ ও প্রচারে নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে। খেলাধুলার জন্য তিনটি উপজেলা স্টেডিয়াম করা হবে।
১২. জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও সৌন্দর্য বর্ধনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে
১৩. নদী এলাকার সেবা বৃদ্ধি করা হবে।
১৪. শ্রমিক সেবার জন্য শ্রমিক উন্নয়নে বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
১৫. রেমিটেন্স যোদ্ধা সহ যুবকদের নানামুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং হয়রানিমুক্তভাবে রেমিটেন্স যোদ্ধাদের অর্থ আদান-প্রদান সহ সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হবে।
১৬. সুস্থ সংস্কৃতি প্রচার ও বিকাশের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সকলের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।
এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা জহুরুল ইসলাম, সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফ্ফার খান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আবুল হাশেম, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এজিএস সামিউল হাসান, জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু হুরায়রা রিদয় প্রমুখ।