বগুড়া সিটি করপোরেশন
বগুড়ার নবসৃষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে কাকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে—এ নিয়ে জেলাজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। নেতাদের পক্ষে শহরে পোস্টার, ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়েছেন অনুসারীরা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একাধিক নেতার নাম সম্ভাব্য প্রশাসক হিসেবে আলোচনায় আছে। প্রশাসক হতে হাইকমান্ডে তদবির এবং দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন নেতারা।
শহরের আনাচে-কানাচে নেতাদের শুভাকাঙ্ক্ষীরা ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে প্রচার করছেন, সন্ধ্যার পর দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা এখন এ নিয়ে আলোচনা করছেন। শহর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতারাও আলোচনায় রয়েছেন। বগুড়ায় দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতারাও পিছিয়ে নেই।
জানা গেছে, বগুড়া জেলা বিএনপির কয়েকজন অভিজ্ঞ নেতা এবং যুবদল জেলা শাখার প্রভাবশালী সংগঠকদের নাম আলোচনায় রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবুও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
বগুড়া বিএনপির শক্তিশালী এক ঘাঁটি। দলটির নীতিনির্ধারকদের কাছে এ জেলা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, এমন একজনকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, যার প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাও আছে।
বগুড়া শহর বিএনপি সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরুকে প্রশাসক হিসেবে দেখার দাবি জানিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বেশ প্রচার চলছে। অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান বগুড়া পৌরসভার কয়েকবার নির্বাচিত সাবেক মেয়র ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে তার নামও আলোচনায় রয়েছে। কেএম খায়রুল বাশার জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং আজিজুল হক কলেজের সাবেক ভিপি। তৃণমূলের নেতা হিসেবে তার নামও প্রস্তাব করা হচ্ছে। বগুড়া জেলা যুবদল সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের নামও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং রাজনৈতিক মহলে আলোচিত।
এছাড়া প্রশাসক পদে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন এবং সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেলের নামও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচিত হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত সম্ভাব্যদের তালিকায় এমন ব্যক্তিদের নাম রয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। একইসঙ্গে গ্রহণযোগ্যতা ও নেতৃত্বগুণও বিবেচনায় রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে।
এদিকে সাধারণ মানুষও প্রশাসক পদে যোগ্য এবং সৎ নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছে। নগরীর নাগরিক সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে একজন দক্ষ প্রশাসকের বিকল্প নেই বলে মত দিয়েছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বগুড়া পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডে সাত লাখ মানুষের বসবাস। স্থানীয় জনগণ বলছেন, স্বচ্ছ লোকজনদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। পেশিশক্তিনির্ভর লোকজনকে প্রশাসক পদে নিয়োগ না দেওয়াই উচিত। বিএনপি ও সেবাদানকারী মনোভাবাপন্ন নেতাদের এগিয়ে রাখছেন অনেকেই।
বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদ ঘিরে যে রাজনৈতিক গুরুত্ব ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে, এতে স্পষ্টভাবেই বোঝা যাচ্ছে এ পদটি আগামী দিনে জেলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।