রাজশাহী মহানগরীর শাহ-মখদুম থানার নওদাপাড়া এলাকায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. মামুন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে তার বাড়ির তালা ভেঙে দখল নেওয়া হয়েছে ।
বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
মামুন জানান, ২০২৪ সালের ১৭ মে নওদাপাড়া এলাকার জিয়া পার্কের উত্তর ভাড়ালিপাড়া মোড় সংলগ্ন স্থানে বাড়িসহ সাড়ে তিন কাঠা জমি ক্রয় করেন তিনি। এরপর থেকে তিনি পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিএনপির ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সচিব মো. হারুনুর রশিদ হারানের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি তার বাড়ির তালা ভেঙে দখল করেন।
তার দাবি, ঘটনার পরদিন ওই বাড়িতে আবির নামে এক পুলিশ সদস্যকে উঠিয়েছেন হারুন। বর্তমানে ওই পুলিশ সদস্য পরিবারসহ বাড়িটিতে অবস্থান করছেন। অথচ বাড়ির ভেতরে তার আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ প্রয়োজনীয় মালামাল রয়ে গেছে। কিন্তু তাকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে মামুন বলেন, আমি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) এমএলএসএস পদে কর্মরত। জীবনের সব সঞ্চয়, ব্যাংক ঋণ এবং বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাড়িটি কিনেছি। এখন নিজের বাড়ির দখল হারিয়ে পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হারান। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের পর থেকে মামুন ওই বাড়িতে ছিলেন না। এলাকাবাসী বাড়িটি দেখভাল করছিল। পরে পুলিশ সদস্য আবির বাড়িটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সেখানে ওঠেন। আমি নিজেই মামুনকে ফোন করে ডেকেছিলাম। পরে তিনি ও তার স্ত্রী আমার সঙ্গে দেখা করলে আমি তাদের আইনি প্রক্রিয়ায় বাড়ি ফেরত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর-রশিদ বলেন, চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমি সবসময় অবস্থান নিয়েছি। কেউ রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অন্যায় করলে তা সমর্থনের সুযোগ নেই।
শাহ-মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, বাড়ি দখলের অভিযোগে মামুনের স্ত্রী রুমা আক্তার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
এমই