গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের পল্লিতে এক তরুণ উদ্যোক্তা সুলতান আহম্মেদ আঙুরের চাষ করে সফল হয়েছেন। মাত্র সাত মাসের মধ্যেই গাছে আঙুরের ফলন আসায় এলাকায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বর্তমানে তার বাগানে কাটিং পদ্ধতির মাধ্যমে উন্নত মানের আঙুরের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের উলিপুর গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে কৃষি উদ্যোক্তা সুলতান আহম্মেদ গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে চার শতক জমিতে আঙুরের বাগান করেন। তিনি জানান, আঙুর চাষে সফল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রায় বছর খানেক ধরে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা আঙুরের বাগানগুলো পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে অর্জিত বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে উন্নত ও হাইব্রিড জাতের আঙুরের মাতৃগাছ সংগ্রহ করে নিজ বাগানে রোপণ করেন। এরপর পরিকল্পিত পরিচর্যা, সঠিক সেচ ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ফলে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তার বাগানে আঙুরের আশানুরূপ ফলন এসেছে। উদ্যোক্তা সুলতান আহম্মেদ বলেন, ‘সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক পদ্ধতিতে রক্ষণাবেক্ষণ ও সময়মতো নিবিড় পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে অন্যান্য ফল চাষের ন্যায় আঙুর চাষেও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে কাটিং পদ্ধতির মাধ্যমে আমার বাগানে উন্নত মানের আঙুরের চারা উৎপাদন করছি, যা ভবিষ্যতে বাগান সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে আরো সহায়ক হবে।’
ইতোমধ্যে তিনি নিজ উদ্যোগে প্রায় পাঁচ শতক জমিতে আরো একটি নতুন আঙুর বাগান গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছেন। নতুন লাগানো বাগানে নিজের উৎপাদিত আঙুরের চারাগাছ ব্যবহার করা হচ্ছে।
উলিপুর গ্রামের লোকজন বলেন, সুলতানের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে পুরো গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। প্রচলিত বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি লাভজনক হওয়ার কারণে বিকল্প হিসেবে আঙুর চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।
সুলতানের লাগানো আঙুর বাগান সম্প্রতি পরিদর্শন করেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মেহেদী হাসান। এ সময় তিনি বাগানের সার্বিক অবস্থা ঘুরে দেখেন এবং নিজ হাতে আঙুর সংগ্রহ করে এর গুণগত মান ও স্বাদ পরীক্ষা করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আঙুর বাগান পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, এই বাগানের আঙুর অত্যন্ত সুস্বাদু, রসালো ও মিষ্টি। প্রত্যন্ত পল্লি অঞ্চলে এ ধরনের আঙুরের বাগান করে তাতে সফলতা লাভ করা নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অর্জন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার আমার দেশকে বলেন, অপেক্ষাকৃত উঁচু ভিটা জমিতে আঙুরের বাগান করতে হয়। তরুণ উদ্যোক্তা সুলতান আহম্মেদ আঙুরের বাগান করে শুধু ওই এলাকায় নয়, গোটা উপজেলায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এজন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও তিনি জানান।