অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে গোপনে তেল মজুত
নীলফামারীর সৈয়দপুরে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা ৪ হাজার ৫০৫ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৭ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে শহরের বাইপাস সড়কের ধলাগাছ মোড় সংলগ্ন মেসার্স রোকেয়া এলপিজি গ্যাস ফিলিং স্টেশনের পাশের একটি অস্থায়ী গোডাউনে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, ফিলিং স্টেশনের মালিক সৈয়দপুর শহরের পুরাতন বাবুপাড়ার আব্দুর রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩০), সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের সাগর হোসেন (৩৫), জাহাঙ্গীর আলম (৩৪) ও আলমিদ শেখ (২৪), ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ার মেরাজ আলী (৪০) এবং সৈয়দপুরের পুরাতন বাবুপাড়ার সিরাজ মিয়া (২৫) ও হাতিখানার মঈন উদ্দিন (৪৮)।
অভিযানে জব্দ করা তেলের মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৯১৭ লিটার পেট্রল, ৩৩৮ লিটার ডিজেল ও ২৫০ লিটার অকটেন। এসব তেল ড্রামে ভরে গোপনে অন্যত্র সরানোর প্রস্তুতি চলছিল বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অভিযান শেষে রাত ২টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)সাব্বির হোসেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রধান অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন। অপর ৬ জনকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে ৩ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরে জব্দ করা তেল ভোর ৪টার দিকে শহরের একটি ফিলিং স্টেশনে পরিমাপ শেষে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪০৭ টাকায় বিক্রি করে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ১০টার দিকে পুলিশসহ যৌথভাবে এ অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাভার্ড ভ্যান, তেলের লরি, বড় ড্রাম এমনকি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে গোপনে তেল মজুত করে আসছিল। পরবর্তীকালে এসব তেল বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির হোসেন জানান, ‘অস্থায়ী গুদাম তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে তেল সংরক্ষণ ও সরবরাহের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। জ্বালানি তেল মজুত করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’